দীর্ঘদিন ধরেও রেশনের প্রাপ্য চাল গম হাতে না পৌঁছনোয় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন পুরুলিয়া জেলার মানবাজার এলাকার কেন্দা গ্রামের বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকাল গড়াতেই জমতে থাকে অসন্তোষ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা রূপ নেয় পথ অবরোধে। পুরুলিয়া মানবাজার রাজ্য সড়কের উপর বসে পড়েন শতাধিক গ্রামবাসী। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে দূরপাল্লার গাড়ি, সকলেই পড়েন ভোগান্তিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্দিষ্ট সময়ে রেশন দোকান খোলা হলেও অধিকাংশ উপভোক্তাই তাঁদের প্রাপ্য সামগ্রী পাননি। কারও হাতে অর্ধেক চাল, কারও হাতে গমই পৌঁছয়নি। বহুবার দোকানদারকে জানানো সত্ত্বেও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। তাঁদের দাবি, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। সেই ক্ষোভই এ দিন রাস্তায় নেমে পড়ার কারণ।
অবরোধ চলাকালীন গ্রামবাসীদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। কেউ বলছেন সংসারের হাঁড়ি চড়ানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, কেউ আবার অভিযোগ তুলছেন শিশু ও বয়স্কদের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার। বিক্ষোভকারীদের একাংশের কথায়, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মিলছে না। ফলে বাধ্য হয়েই এই আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রাজনীতিকে বিদায়; অনাস্থা বিজেমূল সেটিঙে! বাংলা ছাড়ছেন সুচিত্রা?
অবরোধের জেরে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সড়কের দু’ধারে লম্বা যানজট তৈরি হয়। বাস যাত্রীদের নেমে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা যায়। স্কুলপড়ুয়া ও কর্মজীবী মানুষদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় প্রশাসনের আধিকারিকরা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তাঁরা। এরপর ধীরে ধীরে অবরোধ ওঠে এবং স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রেশন বণ্টন সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গ্রামবাসীদের স্পষ্ট বার্তা, প্রতিশ্রুতি নয়, তারা চান বাস্তব সমাধান। খাদ্য নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়ে আর কোনও গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না বলেই জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। কেন্দার এই ক্ষোভ তাই কেবল একটি গ্রামের নয়, গ্রামীণ জনজীবনের গভীরে জমে থাকা উদ্বেগেরই প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন অনেকে।









