বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন:
স্পেনের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম শহর বার্সেলোনার কেন্দ্রস্থলে এক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অশান্তি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় শহরের প্রাণকেন্দ্র প্লাসা কাতালুনিয়া (Plaça Catalunya) এবং সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে নামে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পুলিশ ‘মোজোস দ’এসকুয়াদ্রা’ (Mossos d’Esquadra) এবং বার্সেলোনার নগর পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ এবার পবিত্র মক্কা-মদিনাও বাদ পড়ল না! হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র পড়ল মক্কায়
বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষ ও তাণ্ডব
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন পূর্বঘোষিত বা স্বতঃস্ফূর্ত কোনো বিক্ষোভের কারণে শহরের ওই চত্বরে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভের মেজাজ উগ্র হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ হঠাৎই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও নানা বস্তু ছুঁড়তে শুরু করে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ জমায়েত হঠাতে এবং দাঙ্গা থামাতে বড়সড় অভিযান শুরু করে। পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জের পাল্টা জবাবে বিক্ষোভকারীরাও আরও চড়াও হয়। সংঘর্ষের জেরে শহরের কেন্দ্রস্থলের একাধিক দোকানপাটে ভাঙচুর চালানো হয় এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া রাস্তার বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার পাত্রে (Trash bins) আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সরকারি-বেসরকারি পরিকাঠামো ও যাতায়াতের যানবাহনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আরও পড়ুনঃ যুবককে আচমকা জড়িয়ে ধরল হনুমান! ভাইরাল ওড়িশার অদ্ভুত কাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ
যানবাহন ও জনজীবনে প্রভাব
এই আকস্মিক সহিংসতা ও দাঙ্গার জেরে বার্সেলোনার কেন্দ্রস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি প্রধান রাস্তা এবং সংলগ্ন দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। বহু পর্যটক ও সাধারণ মানুষ এই হঠাৎ সংঘর্ষের মাঝে পড়ে চরম হেনস্থার শিকার হন।
পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বার্সেলোনা পুলিশ।


