একটা গোটা দেশ চলছে মাদকের টাকায়। জনগণকে দেখাতে একটা সরকার আছে বটে, তবে সরকার চালায় দুষ্কৃতী-অপরাধীরাই। রাজনৈতিক দলগুলো কম-বেশি নিজেদের স্বার্থে অপরাধীদের কাজে লাগায়, ব্যবহার করে। এ জিনিস সকলের জানা। কিন্তু এমন দেশের কথা শুনেছেন যেখানে অপরাধীরাই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে? নামেই একটা গণতান্ত্রিক কাঠামো আছে বটে, ভোটও হয়। তবে, আড়াল থেকে ক্রিমিনালরাই দেশ চালায়। মাদক ব্যবসার টাকায় চলে দেশের অর্থনীতি। দেশটার নাম মেক্সিকো। সেখানেই এবার বিদ্রোহের আগুন।
আরও পড়ুনঃ পর্যটনে নয়া দিশা! শিলিগুড়িতে আইটিসির Fortune Select হোটেল উদ্বোধন
শুরুটা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। আমেরিকায় গাঁজা ও আফিমের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই চাহিদা মেটাতেই মেক্সিকোয় ব্যাপক আকারে শুরু হয় পোস্ত ও গাঁজা চাষ। কৃষকদের হাত থেকে যা পরে সংগঠিত অপরাধীদের হাতে চলে যায়।
গত শতাব্দীর আটের দশক থেকে বাজারে আসতে শুরু করে ফেন্টানিল, মেথামফেটামিনের মতো ল্যাবে তৈরি নানারকম সিন্থেটিক ড্রাগ। শুরুতে এগুলো কলম্বিয়ায় তৈরি হয়ে, মেক্সিকো দিয়ে আমেরিকায় ঢুকতো। পরে মেক্সিকোতেই এই মাদক তৈরি শুরু হয়। জন্ম হয় একাধিক ড্রাগ কার্টেলের। এই মুহূর্তে মেক্সিকোয় অন্তত আটটা বড় ড্রাগ কার্টেল বা মাদক পাচার চক্র দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হল, সিনালোয়া কার্টেল আর জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল। সেনা, পুলিশ-কারও সাধ্য নেই তাদের ছোঁয়ার। মাদক ছাড়াও এরা তোলাবাজি, অস্ত্রের ব্যবসা, হিউম্যান ট্র্যাফিকিংয়ের মতো নানা বেআইনি কাজ করে। এলাকা দখল নিয়ে কার্টেলগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে। এরাই মেক্সিকোর রাজনীতি, অর্থনীতি-সব নিয়ন্ত্রণ করে।
আরও পড়ুনঃ শিরোপা জিতল ‘67’; কেউ বলে অশ্লীল, কারও মতে স্রেফ একটা নম্বর, ডিকশনারি ডট কমের ‘ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার’
২০০৬ সালে দেশের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ফিলিপ কালদেরন প্রথম কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে সেনা আর পুলিশকে নামান। তাতে রক্তপাত আরও বেড়ে যায়। গত ২০ বছরে মাদককে কেন্দ্র করে হিংসাত্মক লড়াইয়ে মেক্সিকোয় প্রায় ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
তবে এবার মেক্সিকোয় অন্য হাওয়া বইছে। মাদকের নেশা ছেড়ে মেক্সিকোর তরুণ প্রজন্ম মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। তারা সরকারের সঙ্গে ড্রাগ মাফিয়াদের আঁতাতের অভিযোগ তুলছে। বিক্ষোভ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সেনা-পুলিশ।
এর আগে জেন জি-র বিক্ষোভের জেরে নেপাল, মাদাগাসকারে সরকারের পতন হয়েছে। ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, পেরু, মরক্কোর মতো দেশে সরকার না পড়লেও শাসকের মাথার চুল খাড়া হয়ে গিয়েছে। সেই জিনিসই এবার শুরু হল মেক্সিকোয়।









