আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দুই দিনের ঐতিহাসিক সফরে ইজরায়েল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরের মূল লক্ষ্য হল দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের ‘মিশন সুদর্শন’-কে সফল করতে ইজরায়েলের সঙ্গে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের যৌথ উন্নয়নের পথে হাঁটছে নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুনঃ অফিসে খেটে কাজ করছেন! এবার আপনার বেতন আর প্রমোশন ঠিক করবে AI
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘মিশন সুদর্শন’-এর মূল লক্ষ্য হল ভারতের মূল ভূখণ্ডকে শত্রুপক্ষের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করা। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইজরায়েল বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। তাদের ‘অ্যারো’, ‘ডেভিডস স্লিং’ এবং বিখ্যাত ‘আয়রণ ডোম’ প্রযুক্তির কার্যকারিতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। গত জুনে ইরানের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ৯৮ শতাংশই মাঝপথে ধ্বংস করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল ইজরায়েল। ভারত এখন এই প্রযুক্তির যৌথ উন্নয়নে আগ্রহী।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এবারের সফরে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক কেনাবেচার চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলেও, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে বড় ঘোষণা আসতে পারে। ইজরায়েল প্রথমবারের মতো তাদের উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ‘স্ট্যান্ড-অফ’ মিসাইল সিস্টেমের প্রযুক্তি ভারতের সঙ্গে শেয়ার করতে রাজি হয়েছে। এছাড়া ভারত ইজরায়েল থেকে নিম্নলিখিত অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে-
র্যাম্পেজ: আকাশ থেকে জমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক মিসাইল।
স্পাইস ১০০০: দূরপাল্লার গ্লাইড বোম্ব।
লোইটারিং অ্যামুনিশন: হার্পি ও হারোপ-এর মতো আত্মঘাতী ড্রোন।
বারাক ইআর: যুদ্ধজাহাজ রক্ষার জন্য বর্ধিত পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলে যাচ্ছেন রিঙ্কু মজুমদার? বাংলায় কি ফের ফুল বদল!
সম্প্রতি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় ভারত ইজরায়েলি র্যাম্পেজ মিসাইল এবং পাম ৪০০-এর মতো ড্রোন ব্যবহার করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিল। পাকিস্তানের গভীরে ঢুকে তাদের চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আগামী কয়েক বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রসায়ন অত্যন্ত দৃঢ়। দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক সুরে কথা বলছে। প্রতিরক্ষা ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, পরিশ্রুত পানীয় জল এবং হাই-এন্ড কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত নভেম্বরে প্রতিরক্ষা সচিব আর কে সিং-এর ইজরায়েল সফরের সময় যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, মোদীর এই সফরে তা পূর্ণতা পেতে চলেছে। ভারতের আকাশসীমাকে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করাই এখন মোদী-নেতানিয়াহু জুটির মূল লক্ষ্য।









