দুদিনের সফরে ইসরায়েল গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমানবন্দরে মোদীকে স্বাগত জানান নেতানিয়াহু। আর এই সফর ঘিরেই ফের দেশে শুরু রাজনৈতিক তরজা। মোদীর সফর নিয়ে এবার বিরোধিতা শুরু করেছে বামেরা। বাম সংগঠনগুলি বিশেষ করে CPIM মোদীর সফর নিয়ে বড় বিবৃতি দিয়েছে। গাজায় চলমান সংঘাত এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের অভিযোগের আবহে এই সফরকে “প্যালেস্টাইনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা” বলে আখ্যা দিয়েছে সিপিআই(এম)।
আরও পড়ুনঃ সিপিএম ৯ বাম শরিকে আপত্তি! বাম রাজনীতিতে ফের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
দলের পলিট ব্যুরোর তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল গাজায় “গণহত্যা” চালাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির মাঝেও হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। পশ্চিম তীরে প্যালেস্টাইনিদের উপর আক্রমণ এবং বসতি স্থাপনের হার বেড়েছে বলেও দাবি করেছে বামেরা।
সিপিআই(এম)-এর মতে, এই পরিস্থিতিতে মোদীর সফর নেতানিয়াহুর সরকারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বৈধতা দেয়। দলের অভিযোগ, সফরের মূল উদ্দেশ্য জায়োনিস্ট সম্প্রসারণবাদী শাসনের সঙ্গে কৌশলগত, সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা। বামেরা মনে করছে, এর মাধ্যমে ভারত কার্যত আমেরিকা-ইসরায়েল অক্ষের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করছে।
দলের নেতা মারিয়ান আলেকজান্ডার বেবি এই সফরকে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থানের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, প্যালেস্টাইনের আত্মনির্ধারণের অধিকারের প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থন ছিল স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ইসরায়েলের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা “জাতির আত্মার উপর অমোচনীয় কালি” ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়াও বামেদের দাবি, এই সফরের সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, আমেরিকা ও ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের উচিত ছিল আরও সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়া।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান ভিন্ন। সরকারের দাবি, ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক বহুদিন ধরেই কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, সাইবার সিকিউরিটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সম্ভাব্য ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্রের খবর, মোদী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান প্রসঙ্গেও আলোচনা করবেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে ভাষণ এবং ইয়াদ ভাশেম হলোকস্ট স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সূচিতে। কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও এই সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের আবহে ইসরায়েলের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠতা দেখানো নৈতিকভাবে সঙ্গত নয়। বিরোধীদের মতে, ভারতের উচিত ছিল মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।









