আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শিক্ষা ও সামাজিক নানা সংকটকে কেন্দ্র করে তীব্র গণ-অসন্তোষে ফুঁসছে পূর্ব ইউরোপের দেশ আলবেনিয়া। রাজধানী তিরানায় (Tirana) শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা এবং ক্রমবর্ধমান সামাজিক সমস্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শত শত ছাত্র-ছাত্রী। পরিস্থিতি এতটাই হিংসাত্মক রূপ নেয় যে, বিক্ষোভকারীরা সরাসরি আলবেনিয়ার শিক্ষা মন্ত্রালয়ের ভবন লক্ষ্য করে ইট ও কংক্রিটের ব্লক ছুঁড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
তিরানায় কেন এই তীব্র আন্দোলন?
গত কয়েকদিন ধরে আলবেনিয়াজুড়ে শিক্ষাখাতে বাজেট ছাঁটাই, ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট নিয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। তরুণ প্রজন্মের অভিযোগ, সরকারের ভুল নীতি ও উদাসীনতার কারণে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে।
মঙ্গলবার আন্দোলনরত ছাত্ররা মিছিল করে সোজা তিরানায় অবস্থিত শিক্ষা মন্ত্রালয়ের সামনে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে স্লোগান তোলার পাশাপাশি ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা মন্ত্রালয় ভবন লক্ষ্য করে ইট, পাথর এবং কংক্রিটের বড় বড় ব্লক ছুঁড়তে শুরু করেন। এর ফলে ভবনের জানলার কাঁচ ভাঙচুর হয় এবং চত্বরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুনঃ স্ট্যালিন-হিটলারের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা! ২০২৮-এর মধ্যেই জার্মানিতে রুশ হামলা?
পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় দ্রুত ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও দাঙ্গা দমন শাখা পৌঁছায়। বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ পাল্টা আক্রমণ শানায়:
-
কাঁদানে গ্যাসের শেল: বিক্ষুব্ধ ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে পরপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়।
-
জলকামান ব্যবহার: জলকামান দিয়ে তীব্র বেগে জল ছুড়ে আন্দোলনকারীদের মন্ত্রালয় চত্বর থেকে হঠিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের পরেও তিরানার বিভিন্ন অলিগলিতে খণ্ডযুদ্ধ ও উত্তেজনা বজায় রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আলবেনিয়ার অন্যান্য অঞ্চলেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


