মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নামাজের জন্য জায়গা দাবি করে ট্যাক্সি-রিকশা ওলা-উবার ইউনিয়নের আবেদন বোম্বে হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছে, ধর্ম যাই হোক না কেন নিরাপত্তা সবার ওপরে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কোনোভাবেই আপোষ করা যাবে না। এই রায়ে দেশের নিরাপত্তাকে ধর্মীয় আবেদনের ওপরে প্রাধান্য দেওয়ার একটা ল্যান্ডমার্ক নজির তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গোঁসাইপুরে সরগরম! ভোটমুখী বাংলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ রাষ্ট্রপতির
ঘটনাটি শুরু হয়েছে গত বছর এপ্রিল মাসে। ট্যাক্সি-রিকশা ওলা-উবার মেন্স ইউনিয়নের অভিযোগ, বিমানবন্দরের ডোমেস্টিক টার্মিনালের কাছে প্রায় ১৫০০ বর্গফুটের একটা অস্থায়ী শেড ছিল, যেখানে ট্যাক্সি-অটো চালক, বিমানবন্দর কর্মী এবং হোটেল স্টাফরা রমজান মাসে নামাজ পড়তেন। এই শেডটি প্রায় তিন দশক ধরে ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিলে মুম্বই মেট্রোপলিটন রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমএমআরডিএ) এটি ভেঙে ফেলে।
ইউনিয়নের দাবি, এটা নোটিশ ছাড়াই অবৈধ বলে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তারা আদালতে আবেদন করে যে, ওই জায়গায় শেড ফিরিয়ে দেওয়া হোক বা অন্য কোনো কাছাকাছি জায়গা দেওয়া হোক যাতে রমজানে নামাজ পড়া যায়।বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি বি.পি. কোলাবাওয়ালা এবং ফিরদোশ পুনিওয়ালার ডিভিশন বেঞ্চ এই আবেদন শুনানি করে। ৫ মার্চ ২০২৬-এ রায় ঘোষণা করে আদালত বলেছে, রমজান ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে যেকোনো জায়গায় নামাজ পড়ার অধিকার দাবি করা যাবে।
আরও পড়ুনঃ হুগলীর রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা! বাম শিবিরে চাঞ্চল্য!
বিশেষ করে বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল জায়গায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। আদালত বলেছে, “ধর্মীয় হোক বা অন্য কিছু নিরাপত্তা প্রথম। এই বিমানবন্দর দিয়ে সব ধর্মের মানুষ যাতায়াত করে। নিরাপত্তা নিয়ে আমরা একটুও আপোষ করব না।”মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ। শেডটি অবৈধ ছিল এবং সেখানে জমায়েত হলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
আদালত সরকারের রিপোর্ট দেখে বলেছে, এমনকি অস্থায়ীভাবেও কোনো স্থান দেওয়া যাবে না। পিটিশনারদের বলা হয়েছে, তারা নামাজ পড়তে চাইলে অন্য জায়গা খুঁজুন কেউ নামাজ পড়তে বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু বিমানবন্দরের কাছে এমন কোনো দাবি মানা যাবে না।এই রায়ে অনেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। ট্যাক্সি চালকদের ইউনিয়নের আইনজীবী শেহজাদ নকভি আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আদালত সব যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে। রায়ের পর পিটিশন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।









