দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলাদেশের নির্বাচন। এদিকে শাসক দল আওয়ামী লীগকে বর্জন করেই দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। এই আবহেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের করলেন এক বিতর্কিত মন্তব্য। কাদেরের মতে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া কোনোভাবেই নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ২৫ জানুয়ারি রংপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুনঃ বিভিন্ন পদে একাধিক বঙ্গনারী; সিপিএমের কেন্দ্রীয় মহিলা সংগঠনে শীর্ষে কনীনিকা ঘোষ
জিএম কাদেরের যুক্তি সহজ ও সরল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা দেশের ভোটারদের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ। এই বিশাল অংশকে ভোটের মাঠ থেকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে তা একতরফা হয়ে যায়। আগে যেমন বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হয়েছে, এখনও তেমনই একটা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অসম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও তার সঙ্গে যুক্ত কিছু দল যেমন জামায়াত, এনসিপি মিলে একটা অদৃশ্য জোট গড়ে তুলেছে, যার অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। এতে সরকার ও শাসক দলের মধ্যে পার্থক্য মুছে যাচ্ছে, নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনও নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সমর্থকদের ভোট দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি সবাই আওয়ামী লীগের ভোট চাইছে, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জাতীয় পার্টি যদি চায়, তাহলে তাদের ‘দোসর’ বা ‘সহযোগী’ বলে চিহ্নিত করা হয়। এটা চরম রাজনৈতিক বৈষম্য। রংপুর-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জিএম কাদের বলেন, এমন পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারও কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তার অভাব আছে।
গত বছরের অস্থিরতার পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আওয়ামী লীগ সাসপেন্ডেড, নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দল প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেছে, এখন এই অবস্থান নিয়ে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, কিন্তু নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
জিএম কাদেরের এই অবস্থান অনেকের কাছে বাস্তববাদী মনে হচ্ছে। কারণ, গণতন্ত্রে সব বড় দলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন পূর্ণাঙ্গ হয় না। আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাঙ্ক বাদ দিলে ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। অন্যদিকে, সমালোচকরা বলছেন, জাতীয় পার্টি হয়তো নিজেদের ভোটার বাড়ানোর জন্য এই কথা বলছে, কারণ তারা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের আকর্ষণ করতে চায়। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনী মাঠ ছাড়বে না। তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে, জনগণের পক্ষে কথা বলবে।









