কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ইউনিয়ন বাজেটের আগেই উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছিলেন অমিত শাহ ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে তাই আশায় বুক বেঁধেছিল পাহাড়বাসী ৷ কিন্তু, ঝুলি ফাঁকাই থাকল বলে অভিযোগ পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলির ৷ ধ্বস রোধে কিংবা পাহাড়ের উন্নয়নে পর্যটনে কোনও বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ৷ আর তা নিয়েই ক্ষোভ রাজনৈতিক নেতাদের ৷ যে তালিকায় রয়েছেন খোদ বিজেপির বিধায়কও ৷
অমিত শাহ উত্তরবঙ্গ সফরে এসে চা-বাগানের সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন ৷ কিন্তু, বাজেটে সেই চা-বাগানের জন্য নজরকাড়া কিছুই ছিল না ৷ ফলে ফাঁকা হাতেই থাকতে হল পাহাড়বাসী থেকে চা-শ্রমিকদের ৷ অথচ পাহাড়বাসী এবার আশা করেছিলেন বাজেটে তাদের পাতে কিছু জুটবে ৷ এই বাজেট দেখে হতাশ খোদ বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা ৷ তিনিও বাজেটের সমালোচনা করছেন ৷ পাশাপাশি অমিত শাহের সফরকেও কটাক্ষ করেছেন বিষ্ণুপ্রসাদ ৷ ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাও বাজেট নিয়ে কটাক্ষ করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ৷
আটের দশক থেকে পাহাড়ের একাংশ মানুষ পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করে চলেছে ৷ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) গঠন করেছিলেন ৷ কিন্তু, পাহাড়বাসী লোকসভা থেকে বিধানসভা নির্বাচন, সর্বত্রই ভরসা রেখেছে বিজেপির উপর ৷ তারপরেও কেন তাদের হতাশ হতে হল, প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলি ৷
বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বলেন, “হতাশাজনক বাজেট ৷ স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা কোনও কিছুতেই আশার আলো দেখাতে পারেনি এই বাজেট ৷ কৃষকদের জন্য কিছুই বলেনি তারা ৷ গ্রামের মানুষকে বোকা বানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার ৷ বেকারদের চাকরির কোনও হদিশ নেই ৷ যেখানে পাহাড় নিয়ে একটা শব্দ খরচ করেনি, সেখানে আবার বরাদ্দ ভাবাটাও দুঃসাহসিক বিষয় ৷”
আরও পড়ুনঃ সকাল-সন্ধ্যায় হালকা ঠান্ডা লাগবে! শীতের শেষ ধাপে বঙ্গের আবহাওয়া
শুধুমাত্র বাজেট নয় ৷ বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে চলে এল বিষ্ণুপ্রসাদের কথায় ৷ তিনি বলেন, “অমিত শাহ এসে বলে গেলেন তৃণমূল সরকার নাকি গোর্খাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করছে ৷ অথচ আমি যখন সাংসদ রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে ‘জল জীবন মিশনে’র দুর্নীতি প্রকাশ্যে আনলাম, তখন তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করল ৷ যারা নিজের দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা করে, তারা আবার অন্য দলের সমালোচনা করে কী করে ! এদের কোনও নীতির ঠিক নেই ৷”
জিটিএ মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, “বিজেপি পাহাড় নিয়ে কোনও চিন্তা করে না ৷ পাহাড়ে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা রাজ্য সরকার করেছে ৷ বিজেপি শুধু গল্প শোনায় কাজ করে না ৷ তা একাধিকবার প্রমাণিত ৷ বাজেটে পাহাড়ের জন্য কোনও কিছু না-দিয়ে, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল ৷”
ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের সভাপতি অজয় এডওয়ার্ড বলেন, “আমরা চূড়ান্ত হতাশ এই বাজেটে ৷ আমরা বরাবর আলাদা প্যাকেজের দাবি রেখেছি পাহাড়ের উন্নয়নে ৷ কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকার যে পাহাড় নিয়ে উদাসীন, তা বাজেটেই লক্ষ্য করা গেল ৷”





