তাজমহলের গল্প শুরু হয় মাটির নিচ থেকে। আপনি হয়তো ভাবছেন, এত বিশাল ওজনের একটি ইমারত নিশ্চয়ই কনক্রিটের শক্ত পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এখানেই সবথেকে বড় টুইস্ট! তাজমহলের পুরো ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে আবলুস (Ebony) নামক এক বিশেষ ধরনের কাঠের ওপর। সাধারণ কাঠ জলে পচে যায়, কিন্তু আবলুস যত বেশি জলের সংস্পর্শে থাকে, তত বেশি পাথরের মতো শক্ত হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘দুধ না খেলে হবে না ভাল ছেলে’; …নিয়মিত দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা
শাহজাহানের ইঞ্জিনিয়াররা জানতেন যমুনা নদীর জলই এই কাঠের আয়ু বাড়িয়ে দেবে। তাই মাটির নিচে হাজার খানেক কুয়া খুঁড়ে তাতে লোহা ও পাথর ভরে এই কাঠের ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, যমুনা নদী এই ইমারতের জন্য কেবল সৌন্দর্য নয়, বরং এর টিকে থাকার ‘লাইফ-সাপোর্ট’।
এবার আসি সেই রহস্যময় ২২টি বন্ধ ঘরের গল্পে। ইন্টারনেটের কনস্পিরেসি থিওরি বলে ওখানে মন্দির বা গুপ্তধন আছে। কিন্তু আসল সত্যটা অনেক বেশি সায়েন্টিফিক। তাজমহলের মার্বেল হলো ক্যালসিয়াম কার্বনেট। বদ্ধ ঘরে মানুষের ভিড় বাড়লে এবং নিশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়লে তা মার্বেলের সাথে বিক্রিয়া করে পাথরকে পাউডারে পরিণত করে দেবে। সহজ কথায়, তাজমহল ভেতর থেকে ক্ষয়ে যাবে। বিল্ডিংটাকে এই রাসায়নিক ক্ষয় থেকে বাঁচাতেই ওই ঘরগুলো সিলগালা করে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৯ দিনের ব্যবধানে কেঁপে উঠল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত
তাজমহলের চারপাশের চারটি মিনার খেয়াল করেছেন? ওগুলো কিন্তু একদম সোজা নয়, বরং বাইরের দিকে সামান্য হেলানো। এটি স্টাইল নয়, এটি হলো এক অসাধারণ ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি। যদি বড় কোনো ভূমিকম্প হয়, তবে মিনারগুলো যেন মূল গম্বুজের ওপর না পড়ে বাইরের দিকে পড়ে যায়। ৪০০ বছর আগেই ‘সেফটি ফার্স্ট’ প্রোটোকলটি তাঁরা ল্যাবরেটরির মতো নিখুঁতভাবে সাজিয়েছিলেন। এর সাথে যোগ হয়েছে অপটিক্যাল ইলিউশন—গেটে ঢোকার সময় মনে হবে তাজমহল আপনার কাছে আসছে, কিন্তু এগোতে গেলেই মনে হবে ওটা দূরে সরে যাচ্ছে!
সবশেষে সেই বিখ্যাত গুজব—”শাহজাহান ২০ হাজার শ্রমিকের হাত কেটেছিলেন।” ইতিহাসে এর কোনো প্রমাণ নেই। বরং ইতিহাস বলে, ওই একই শ্রমিকরা পরে শাহজাহানাবাদ বা পুরান দিল্লির লালকেল্লা নির্মাণে সাহায্য করেছিলেন। হাত না থাকলে তাঁরা কাজ করলেন কীভাবে? আসলে ‘হাত কেটে নেওয়া’ বলতে একটি চুক্তিকে বোঝানো হতো, যেখানে বলা হয়েছিল তাঁরা আর কখনও তাজমহলের মতো দ্বিতীয় কোনো ইমারত বানাতে পারবেন না। তাজমহল শুধু একটি সমাধি নয়, এটি হলো ৪০০ বছর আগের বিশ্বের সেরা ব্রেইনগুলোর এক অভাবনীয় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টারপিস’। শাহজাহান কেবল টাকা ঢালেননি, তিনি বিজ্ঞানের এমন এক নিদর্শন তৈরি করেছিলেন যা আজও বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়।





