সকাল হতেই ফের অশান্ত বেলডাঙা। বড়ুয়া মোড়ে শুরু হল রাস্তা অবরোধ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর অবরোধ শুরু করল এলাকাবাসী। রেলগেটের কাছে দোকানপাট ভেঙে গুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
আরও পড়ুনঃ অনেক হল শীতের খেলা, শীতের ‘গেম ওভার’; সরস্বতী পুজোয় পাখা চালাতে হবে!
শুক্রবারের পর শনিবারও উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। পথে শ’য়ে-শ’য়ে মানুষজন। গতকাল আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিক। পথ অবরোধ থেকে ট্রেন আটকানো লাগাতার চলছে সেখানে। শনিবার ফের জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন জনতা। সড়কের যে সব কাজ চলছিল সেই সব কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ভাঙচুর করা হয়েছে রেল গেট। আটকে রয়েছে ট্রেন। বন্ধ লালগোলা-কৃষ্ণনগর রুটের ট্রেন চলাচল। এরপরই প্রশ্ন উঠছে এভাবে প্রতিবাদ হয়? এটাই কি প্রতিবাদের ছবি?
শুক্রবার নয়,আজও টার্গেট করা হচ্ছে সাংবাদিকদের। মারধর করা হচ্ছে তাঁদের। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ক্ষিপ্ত জনতা নেমেছেন রাস্তায়। হাতে রয়েছে বাঁশ। রাস্তার ধারে থাকা যাবতীয় ফ্লেক্স-ব্যানার উপরে ফেলা হচ্ছে। লাথি মারা হচ্ছে তার উপরে। এলাকায় একজনও পুলিশকেও দেখা গেল না। কোথায় গেল পুলিশ উঠছে প্রশ্ন।
দিন চারেক আগে বিহারে ফেরিওয়ালার কাজ নিয়ে গিয়েছিল বেলডাঙার মকদমপুরের বাসিন্দা আনিসুর রহমান। এলাকারই আরও সাতজনের সঙ্গে সেখানে ঘরভাড়া করে ছিল সে। অভিযোগ, বাংলাদেশি সন্দেহে আনিসুরকে বেপরোয়া মারধর করে ওই এলাকার কিছু মানুষ। শুক্রবার রাতে কোনওরকমে প্রাণ হাতে করে ঘরে ফেরে সে। জানা গিয়েছে শনিবার সকালে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
স্থানীয় মানুষজন জানান, মাত্র চারদিন আগে বিহারে কাজে গিয়েছিল ওই তরুণ। বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বাড়ি ফিরে ওই তরুণ জানান, তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর সঙ্গীরাও আক্রান্ত হন। তবে আনিসুরের চোটই গুরুতর।
আরও পড়ুনঃ শ্রীমতি জয়া রথীন দত্ত, ২৮ বছর পর গেরুয়া শিবিরের মহারাষ্ট্র জয়ের নেপথ্যে বাঙালি নেত্রী
ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বেলডাঙা। মৃতদেহ গ্রামে ফেরার পরেই শুক্রবার সকাল থেকে জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো কর্মসূচিতে নামেন গ্রামবাসীরা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সুজাপুর–কুমারপুর এলাকার মানুষজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে শনিবার আরও এক শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় নতুন করে তেতে উঠল বেলডাঙা।
বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ ফেরিওয়ালার কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডে তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানতে পারে পরিবার। এলাকায় এই খবর আসতেই তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন জি-২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি। পরে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি তখনকার মতো নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত পোহাতেই ফের ভিনরাজ্য শ্রমিক নিগ্রহের খবর পেয়ে পথে নামেন এলাকার মানুষ।









