কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
গোষ্ঠী সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত অসমের কোকরাঝাড় ৷ বড়ো জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের হিংসা ভয়াবহ রূপ নেয় ৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ৷ নামানো হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স-ও ৷ বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা ৷ সংঘর্ষে অন্তত 2 জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে ৷
আরও পড়ুনঃ ‘মোদী কিছু দেননি’! মোদীকে জবাব দিতে প্রস্তুত মমতা, ২৮ জানুয়ারি বড় সভা
সোমবার সন্ধ্যার পর মঙ্গলবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ৷ কোকরাঝাড়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। বিক্ষোভকারীরা বিরসা কমান্ডো ফোর্সের দু’টি অস্থায়ী শিবিরে আগুন ধরিয়ে দেয় । তারা সিদু কানহু ভবন এবং অন্যান্য ভবনেও ভাঙচুর চালায় । বিক্ষোভকারীরা জানান, ন্যায়বিচার না-পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে ৷ কোকরাঝাড়ের ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে ৷ তারা ইতিমধ্য়ে এলাকায় টহল দিতে শুরু করেছে ৷
সোমবার গণপিটুনির ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার পর এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয় ৷ পাশাপাশি গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানো রুখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দু’টি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে ৷
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ৷ কোকরাঝাড় জেলায় সংঘর্ষ ও গণপিটুনির ঘটনার পর র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে রয়েছে । একই সঙ্গে কোকরাঝাড় ও পার্শ্ববর্তী চিরাং জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে ৷” পাশাপাশি জনগণের কাছে শান্তি বজায় রাখা এবং দ্রুত জেলায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারকে সহায়তা করার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷
ঘটনাটি ঘটে সোমবার কারিগাঁও থানা থেকে মাত্র এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে গৌরীনাগর এলাকায় ৷ নিহত ব্যক্তির নাম চিকনা জোহালুও বিসমিত (২৮) ৷ সড়ক দুর্ঘটনার জেরে যাঁকে একদল লোক পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ । এই ঘটনায় যুগিরাজ ব্রহ্মা, মহেশ মুর্মু এবং সুনীল মুর্মু নামে তিন জন গুরুতর আহত হন । ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিসমিতের ৷ আর হাসপাতালে মৃত্যু হয় সুনীল মুর্মুর ৷ আহতদের কোকরাঝাড় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৷ এই ঘটনায় পুলিশ ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ৷
আরও পড়ুনঃ বিয়ে করবেন কি করে? ট্রাম্প আপনাকে বিয়েই করতে দেবে না! আর এক পা বাড়ালেই দেড় লাখে হলুদ ধাতু
কোকরাঝাড়ের পুলিশ সুপার অক্ষয় গর্গ বলেন, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। বরোন্দা বসুমাতারী নামে একজন ঠিকাদার আউদাং বাজার পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কাজ পেয়েছেন এবং তিনি সেই কাজ করছেন। তাঁর জামাই ও কয়েকজন শ্রমিক কিছু সরঞ্জাম আনতে গিয়েছিলেন । ঘটনাটি রাত প্রায় আটটার দিকে ঘটে । আমরা শুনেছি, পথে গাড়িটি উল্টে যায় । এই এলাকার ক্ষুব্ধ লোকজন তাদের গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং গাড়ির ভেতরে থাকা চার জনকে মারধর করে। সোমবারই আমরা ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছি ।”
মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । বড়ো এবং আদিবাসী উভয় সম্প্রদায় কারিগাঁও ফাঁড়ির কাছে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে, টায়ার ও কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় ৷ সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে ৷ পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে









