বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব যাদের কাঁধে, খোদ সেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের একাংশের ভূমিকা নিয়েই ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে এক কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর নির্বিঘ্নে সিগারেটে সুখটান দেওয়ার ছবি বা ভিডিও সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ এই ধরনের আইন ভাঙলে যেখানে তৎক্ষণাৎ কড়া আইনি পদক্ষেপ ও জরিমানার মুখোমুখি হন, সেখানে খোদ পুলিশের এই বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে ক্ষোভে ফুটছেন সাধারণ যাত্রীরা।
আরও পড়ুনঃ চোরবাগানের পর সতর্কতা; শুধু কলকাতাতেই ১২ জন, শহরে বিসর্জন তদারকিতে ১৮ আইপিএস
কী ঘটেছিল শিয়ালদহ স্টেশনে?
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে রাতে ব্যস্ততম শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে। জনবহুল প্ল্যাটফর্মে রেলের বা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা এক পুলিশকর্মী (যাঁর গায়ে পুলিশের খাকি পোশাক ও স্পষ্ট পরিচয় ছিল) নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যেই ধূমপান করছিলেন। জনবহুল চত্বরে ধূমপান বিরোধী আইন এবং রেলওয়ে চত্বরের নিরাপত্তা বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই পুলিশকর্মীর নির্বিঘ্নে দীর্ঘ সময় ধরে সিগারেট খাওয়ার বিষয়টি উপস্থিত একাধিক যাত্রীর চোখে পড়ে।
অনেকেরই প্রশ্ন, সাধারণ কোনো নাগরিক যদি রেল স্টেশন বা জনবহুল গণপরিবহন এলাকায় এই ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন করতেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে রেল পুলিশ বা জিআরপির পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হতো কিংবা আইনি পদক্ষেপ করা হতো। অথচ খোদ প্রশাসনের পোশাক গায়ে চাপিয়ে একজন রক্ষী নিজেই যখন আইন ভাঙেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা নিয়ে এখন জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হাড়ে হাড়ে শিক্ষা দিয়েছে চোরবাগান; সতর্কতা প্রশাসন, কলকাতা পুলিশের বিশেষ নজর বিসর্জনে চার ঘাটে
সাধারণ মানুষ বনাম প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে ক্ষোভ
রেল স্টেশন বা জনবহুল প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ করার পিছনে যেমন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভাবা হয়, তেমনই জননিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত থাকে। বিশেষ করে ট্রেন চলাচল ও বিপুল জনসমাগমের মাঝে এই ধরনের উদাসীনতা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ডেকে আনতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, খাকি পোশাকের আড়ালে অনেক সময়ই এই ধরনের বেআইনি কাজ প্রশ্রয় পেয়ে যায়। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যে আইন অত্যন্ত কঠোর, পুলিশের ক্ষেত্রে কি তবে তা শিথিল?
ঘটনার পর থেকে সচেতন নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন যাত্রী সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জায়গায় কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর এমন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় রেল পুলিশ বা রাজ্য প্রশাসনের উচ্চমহল থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও, এই ছবি ও অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দোষী ওই কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত বা কড়া পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।


