আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এয়ার স্ট্রাইক। আর এই এয়ার স্ট্রাইকই কাল হল পাকিস্তানের । বৃহস্পতিবার রাত থেকেই পাকিস্তানের ডুরান্ড লাইন বরাবর গুলি বর্ষণ শুরু করেছে তালিবান সেনা। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উস্কানি এবং সাম্প্রতিক এয়ার স্ট্রাইকের প্রতিশোধ নিতেই এই আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। গত রবিবার পাকিস্তান বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ৭০ জঙ্গিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে।
আরও পড়ুনঃ বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! রেকর্ড হারে দেশ ছাড়ছেন ট্রাম্পের দেশের নাগরিকরা
পাকিস্তান বলছে, এই হামলা TTP (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান) ও ISKP-এর ক্যাম্প লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যারা পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সুইসাইড বোমা হামলার জন্য দায়ী। কিন্তু তালিবান দাবি করেছে যে, এই হামলায় বেসামরিক লোকজন, নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। তালিবান এই হামলাকে “লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেছে এবং প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে দুরান্দ লাইন বরাবর ভারী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
আফগান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কর্পসের মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে বলেছে, “পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে ভারী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।” তালিবানের দাবি, তারা পাকিস্তানি সেনাদের একাধিক পজিশন লক্ষ্য করে রকেট ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করছে। কোনো কোনো রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, আফগান বাহিনী কয়েকটা পাকিস্তানি চেকপোস্ট দখল করেছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।
ডুরান্ড লাইন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত। আফগানিস্তান এই লাইনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না। ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে TTP-এর মতো গোষ্ঠী আফগান মাটি থেকে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করে যে, তালিবান TTP-কে আশ্রয় দিচ্ছে।
অন্যদিকে তালিবান বলছে, পাকিস্তানের হামলা বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে।এই সংঘর্ষ ২০২৪-২০২৫ সাল থেকে চলা সীমান্ত উত্তেজনার নতুন অধ্যায়। গত বছর অক্টোবরে দুই পক্ষের মধ্যে ভারী সংঘর্ষ হয়েছিল, যাতে শতাধিক লোক নিহত হয়। পরে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়, কিন্তু সেটা ভঙ্গুর। এখন আবার বিমান হামলা ও প্রতিশোধমূলক আক্রমণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রসংঘের মিশন আফগানিস্তানে (UNAMA) বলেছে যে, সীমান্তে হিংসা বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে।
আরও পড়ুনঃ এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ক্ষুধার ঝুঁকিতে! পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে
তালিবানের মুখপাত্র জ়াবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান মূলত কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় হামলা চালাচ্ছে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “কাপুরুষ পাকিস্তানি সেনা কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় বিভিন্ন জায়গায় এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনও হতাহতের খবর নেই।”
আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেতে অপারেশন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানে যে হামলা করেছিল পাকিস্তান, শিশু ও মহিলাদের মৃত্যু হয়েছিল, তার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ডুরান্ড লাইনের কাছে পাকতিকা, খোস্ত, নানঘারহর, কুনার সহ একাধিক সেক্টরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তানের সেনা। চার ঘণ্টার সংঘাতে দুটি পাকিস্তানি মিলিটারি বেস ও ১৯টি পোস্ট দখল করে নেওয়া হয়েছে। আরও চারটি পোস্ট ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে পাক সেনা। মোট ৫৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলেই দাবি তালিবান সরকারের। এছাড়া প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একটি পাকিস্তানি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে তালিবানের আট যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ১১ জন আহত বলেই জানানো হয়েছে। নানঘরহরে পাকিস্তানের পাল্টা মিসাইল হামলায় ১৩ জন আফগান নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দাবি।









