কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ঘিঞ্জি শহর, গাড়ির হর্ন আর দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে চান? তবে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলার এক শান্ত ও স্নিগ্ধ গ্রাম, লিংসে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি ভারত ও ভুটান সীমান্তের একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। যারা একটু নিরিবিলিতে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য লিংসে এক আদর্শ ঠিকানা।
লিংসে গ্রামটি সবুজে মোড়া এক পাহাড়ি উপত্যকা। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। মেঘেদের আনাগোনা আর পাহাড়ি ঝরনার কুলকুল শব্দে মন জুড়িয়ে যায় পর্যটকদের। গ্রামের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে রয়েছে পাহাড়ি এলাচ আর আদার চাষ। ঝকঝকে নীল আকাশ আর ঘন কুয়াশার লুকোচুরি খেলা এখানে প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী।
আরও পড়ুনঃ অভিযুক্তদের করলেন সতর্ক; ‘দাবাং’ মেজাজে রাজগঞ্জ থানার ‘দাবাং IC’
কী কী দেখবেন লিংসে-তে?
১. ঝান্ডি দারা: এখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। পুরো এলাকাটি যেন ছবির মতো মনে হয়।
২. সেরপা মনাস্ট্রি: বৌদ্ধ সংস্কৃতির ছোঁয়া পেতে এই মনাস্ট্রিটি অবশ্যই ঘুরে দেখা উচিত। এর শান্ত পরিবেশ মনকে প্রশান্তি দেয়।
৩. ধোত্রে ঝরনা: পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা এই জলধারা পর্যটকদের কাছে এক প্রধান আকর্ষণ।
৪. মুলখারা লেক: লিংসে থেকে অল্প ট্রেকিং করে পৌঁছে যাওয়া যায় এই পবিত্র হ্রদে, যার স্বচ্ছ জলে আকাশের প্রতিফলন ধরা পড়ে।
৫. লেপচা আশ্রম: পাহাড়ের প্রাচীন জনজাতি লেপচাদের সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানতে এখানে যাওয়া জরুরি।
লিংসে শুধু অলস সময় কাটানোর জায়গা নয়, এটি ট্রেকারদের জন্যও স্বর্গ। এখান থেকেই শুরু হয় বিখ্যাত ‘মুলখারা ট্রেকিং’। পাহাড়ের দুর্গম পথ আর পাইন বনের মধ্য দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা সারা জীবন মনে রাখার মতো। এছাড়া যারা পাখি দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্যও লিংসে নিরাশ করবে না। হরেক রকমের পাহাড়ি পাখির ডাক আপনার সকালের ঘুম ভাঙাবে।
আরও পড়ুনঃ ২০০ বছরের রীতি ! দোলের ৫ দিন পর আবারও ফিরল রঙের উৎসব
হোমস্টে
লিংসে-র বিশেষত্ব হলো এখানকার হোমস্টে পরিষেবা। কোনো বিলাসবহুল হোটেল নয়, বরং পাহাড়ি মানুষের আতিথেয়তায় ঘরে তৈরি খাবার আর তাঁদের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় এখানে। স্থানীয় পাহাড়ি খাবার, বিশেষ করে অর্গানিক সবজি এবং পাহাড়ি মোমো পর্যটকদের রসনাতৃপ্তি ঘটাবে।
কীভাবে যাবেন?
শিলিগুড়ি বা এনজেপি থেকে কালিম্পং হয়ে ছোট গাড়ি ভাড়া করে সহজেই লিংসে পৌঁছানো যায়। শিলিগুড়ি থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। আবার সিকিমের রেনক হয়েও এখানে আসা সম্ভব।
কখন যাবেন?
বর্ষাকাল বাদে বছরের যেকোনো সময় লিংসে যাওয়া যায়। তবে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকে বলে হিমালয়ের রূপ সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়। অন্যদিকে, এপ্রিল-মে মাসে রডোডেনড্রন এবং অন্যান্য পাহাড়ি ফুলের শোভা দেখতেও ভিড় জমান অনেকে।









