spot_img
Sunday, 8 March, 2026
8 March
spot_img
Homeউত্তরবঙ্গSiliguri: সরগরম শিলিগুড়ির রাজনীতি; রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফর ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে 

Siliguri: সরগরম শিলিগুড়ির রাজনীতি; রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফর ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে 

বিরোধী শিবিরের পাল্টা প্রত্যুত্তরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পেশ করা হয় নথি ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে । একে-অপরের প্রতি তীব্র আক্রমণ শানাল, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ।

দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “রাজ্যের গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি, এটা দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে অপমান, আদিবাসী-সাঁওতাল সমাজকে অপমান ।” পাল্টা মেয়র গৌতম দেবের বক্তব্য, “দেশের সংবিধানিক প্রধানকে নিয়ে বিজেপি নোংরা রাজনীতিতে নেমেছে, এতে গরিমা নষ্ট হচ্ছে ৷ রাষ্ট্রপতির জন্য এই জায়গা সমীচীন নয় রাজ্যের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ।”

আরও পড়ুনঃ কেন শুধুমাত্র ৮ই মার্চ পালন করা হয় নারী দিবস?

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মুর্মুর সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ বিজেপির । এটা শুধুমাত্র দেশের রাষ্ট্রপতির পদ ও মর্যাদার অপমান নয়, দেশের সাংবিধানিক প্রধান এবং আদিবাসী ও সাঁওতাল সমাজের অপমান ৷ তবে থেমে থাকল না রাজ্যের শাসকদলও ।

বিরোধী শিবিরের পাল্টা প্রত্যুত্তরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পেশ করা হয় নথি । তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রীতিমতো লিখিত আকারে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল সভাস্থল সমীচীন নয় । এই ব্যর্থতা রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে যারা অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছিল তাদের । ইন্টারন্যাশনাল সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে এসে উষ্মাপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতিও । প্রথম অবস্থায় এই কর্মসূচি দু’দিনের থাকলেও শেষ মুহূর্তে গত পরশু শুক্রবারের দার্জিলিং সফর বাতিল হয় ।

শনিবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাগডোগরার উত্তরা মাঠে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি । তবে এই অনুষ্ঠান ফাঁসিদেওয়া বিধানসভার বিধাননগরে হওয়ার কথা ছিল । কিন্তু রাজ্য প্রশাসন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল সুরক্ষা ব্যাবস্থা নিয়ে সেখানে সমস্যা হতে পারে । সেই স্থান পরিবর্তন করে গোঁসাইপুরের এয়ারপোর্ট অথরিটির এই মাঠকে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রপতি ভবন । তবে অনুষ্ঠান মঞ্চ ঘিরে প্রথম থেকেই ছিল চরম অব্যবস্থা । অপরিচ্ছন্ন মাঠ থেকে রাষ্ট্রপতির গ্রিন রুম নিয়ে অভিযোগ করে খোদ বিজেপি । অন্যদিকে, সভামঞ্চ থেকে এই পরিস্থিতি পরিদর্শন করে উষ্মাপ্রকাশ করতে দেখা যায় স্বয়ং রাষ্ট্রপতিকেও ।

বাগডোগরায় অনুষ্ঠান সেরে হঠাৎই দ্রৌপদী মুর্মু রওনা দেন বিধাননগরের উদ্দেশে । যেখানে প্রথম এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল । তিনি নিজেই সেখানে পৌঁছে যান ৷ সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপর একরাশ অভিযোগ উগড়ে দেন ৷ তিনি সেখানে স্পষ্টত বলেন, “হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না আমি এখানে আসি । যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে এখানে প্রায় পাঁচ লক্ষ লোক একসঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবে ৷ হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার উপর রাগ করে রয়েছেন ।”

আরও পড়ুনঃ গোঁসাইপুরে সরগরম! ভোটমুখী বাংলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতির এই ধরনের মন্তব্যের পরই ময়দানে নামে বিজেপি । রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে শাসকদলের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন দার্জিলিং জেলা সাংসদ রাজু বিস্তা । তিনি বলেন, “আজ খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটল । দেশের সাংবিধানিক প্রধানের অপমান হল । কিন্তু এটা উচিত হল না ৷ এটা শুধু ওনার অপমান নয়, আদিবাসী সমাজের অপমান । যেখানে সুরক্ষার দোহাই দিয়ে অনুষ্ঠানের জায়গা বাতিল করেছিল সেখানেই তিনি পৌঁছে যান ৷ হাজার মানুষ তাঁর সঙ্গে দেখা করেন ৷ এটা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আশা করা যায়নি ।”

অন্যদিকে রাজুর এহেন মন্তব্যের পরই পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব । তিনি একেবারে দস্তাবেজ নিয়ে বসেন । তাঁর কথায়, “এটা একটা বেসরকারি অনুষ্ঠান । যেখানে রাষ্ট্রপতি অংশগ্রহণ করবেন । রাষ্ট্রপতি ভবন এয়ারপোর্ট অথরিটির মাঠ চিহ্নিত করে । কিন্তু রাষ্ট্রপতির জন্য এই মাঠ সমীচীন নয় বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত আকারে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল । তারপরও, রাষ্ট্রপতি ভবনের সুরক্ষা বিভাগ পুরো মাঠের দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছে । এতে রাজ্যের কোনও গাফিলতি নেই । এটা নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । দেশের সংবিধানিক প্রধানের গরিমা নষ্ট হচ্ছে ৷ রাষ্ট্রপতির মতো পদ মর্যাদার মানুষকে এই রাজনীতিতে না-টানলেও ভালো হত । আসলে ওরা কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছে না ।”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন