ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধের মারাত্মক প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করল ভারতে। প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম বৃহৎ সরবরাহকারী দেশ কাতার ভারতের উদ্দেশে এলএনজি রফতানি একধাক্কায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। কাতারের গ্যাস প্ল্যান্টগুলিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আসন্ন দিনে ভারতে রান্নার গ্যাস এবং সিএনজি-র দাম হু হু করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রবি উদয়ে কার আস্তে যাওয়ার আভাস! রাজ্যপাল পরিবর্তন একটা ভয়াল ইঙ্গিত
আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এখানেই শেষ নয়, গত সোমবার কাতারের দু’টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি প্ল্যান্ট, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এবং মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায় তারা। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কাতার বাধ্য হয়ে তাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রগুলি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এর জেরেই বিশ্বব্যাপী গ্যাস সরবরাহে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।
কাতার থেকে রফতানি হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম বড় ক্রেতা হল ভারত। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের বাজারে এর চেইন রিঅ্যাকশন দেখা যেতে পারে। ভারত বছরে প্রায় ২৭ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করে, যার প্রায় ৪০ শতাংশই আসে কাতার থেকে। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস মূলত বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন থেকে শুরু করে সিএনজি এবং পাইপলাইনে রান্নার গ্যাস সরবরাহের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সমস্ত ক্ষেত্রে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে ইতিমধ্যেই গ্যাস আমদানিকারক সংস্থা ‘পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড’ জরুরি পদক্ষেপ করেছে। সূত্রের খবর, পেট্রোনেটের পক্ষ থেকে তাদের প্রধান গ্যাস গ্রাহক, গেইল লিমিটেড এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনকে কাতার থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রে খবর, দেশের অন্দরে তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। দিল্লি একাধিক তেল উৎপাদক দেশ ও বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ভারতের শক্তিসম্পদের সরবরাহে কোনও ঘাটতি না হয়। কেন্দ্রের মতে, বর্তমানে তেল আমদানি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘প্রবাসে ঘরকন্না’র মহুয়াকে নিয়ে জোর বিতর্ক
বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই মূলত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। কারণ ভারতের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এবং সেই আমদানির প্রায় অর্ধেকই আসে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে। যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে— এমন আশঙ্কাই ঘুরছিল নানা মহলে। সেই কারণেই যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দিল্লি দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ শুরু করে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে রাশিয়া থেকে। সূত্রের দাবি, প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল খুব দ্রুতই ভারতে পৌঁছতে পারে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ভারতকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ছাড় দিয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের জন্য ভারত রাশিয়ার জাহাজে থাকা তেল কিনতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।









