প্রতিবছর ১৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব বেতার দিবস।যোগাযোগের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে রেডিওর গুরুত্ব ও অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই দিনটি উদযাপন করা হয়। ১৯৪৬ সালের এই দিনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতিসংঘ রেডিও। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ইউনেসকো বিশ্ব বেতার দিবস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২০১২ সালে ইউনাইটেড নেশনস জেনারেল অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রহণ করে। সেই বছর থেকেই বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
আরও পড়ুনঃ আনন্দপুরের ক্ষত মেলানোর আগেই ফের শহরে অগ্নিকাণ্ড! এবার আগুন সল্টলেক সেক্টর ফাইভের বহুতলে
বিশ্ব বেতার দিবস শুধু একটি স্মারক দিন নয়, এটি রেডিওর অবিস্মরণীয় ভূমিকার স্বীকৃতি। তথ্যপ্রচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষা বিস্তার, দুর্যোগকালীন যোগাযোগ কিংবা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় রেডিও আজও সমান প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও উন্নয়নশীল অঞ্চলে এটি সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী গণমাধ্যম। ডিজিটাল যুগের দাপটেও রেডিও তার স্বকীয়তা ও প্রভাব অটুট রেখেছে। প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট থিমকে সামনে রেখে এই দিনটির তাৎপর্য আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

তবে রেডিওর গুরুত্ব সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভূত হয়েছিল ১৯৪৭ সালের দেশভাগের অশান্ত সময়ে। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হলে উপমহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হিংসা, উদ্বাস্তু স্রোত আর অনিশ্চয়তার ছায়া। সংবাদপত্র, ডাকব্যবস্থা সহ বহু যোগাযোগ মাধ্যম ভেঙে পড়েছিল। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছিল অল ইন্ডিয়া রেডিও। রেডিও তরঙ্গ ভেসে আনত জরুরি বার্তা উদ্বাস্তু শিবিরের খবর, বিশেষ ট্রেনের সময়সূচি, সরকারি নির্দেশিকা কিংবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা। সীমান্তের দুই প্রান্তে ছিন্নমূল হয়ে পড়া পরিবারগুলির কাছে কখনও কখনও নিখোঁজ স্বজনদের নাম ঘোষণা হতো বেতার তরঙ্গে, যা বহু মানুষকে পুনর্মিলনের আশ্বাস দিয়েছিল। সেই সময়ে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্না রেডিও মারফত নাগরিকদের উদ্দেশে শান্তি ও সংযমের বার্তা দিয়েছিলেন, যা উত্তাল পরিস্থিতিতে স্থিরতার আহ্বান জানায়।
আরও পড়ুনঃ El Nino ‘খেল’ দেখানোর শুরু এখন থেকেই, বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে শীতের
তথ্যের পাশাপাশি রেডিও জুগিয়েছিল মানসিক সান্ত্বনাও। দেশাত্মবোধক গান, সংবাদ বুলেটিন ও জনসচেতনতামূলক বার্তা মানুষকে একসূত্রে বেঁধেছিল। উদ্বাস্তু শিবিরে একটি রেডিও সেটকে ঘিরে জড়ো হওয়া মানুষ শুধু খবরই পেতেন না, পেতেন পরিচিত কণ্ঠের ভরসা, নতুন ভোরের আশাও।

আজকের ডিজিটাল পৃথিবীতেও রেডিওর সেই মানবিক সেতুবন্ধনের শক্তি অনস্বীকার্য। দেশভাগের অন্ধকারে যে মাধ্যম আলো জ্বেলেছিল, বিশ্ব বেতার দিবসে তাকে স্মরণ করা মানে যোগাযোগের সেই অনিঃশেষ শক্তিকেই সম্মান জানানো।







