দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা:
সত্যিই কি নিষ্ঠুর এই পৃথিবী! ভালো মানুষদের যেন কোনও কদরই নেই। সত্যি বলতে, ভালো মানুষরা যেন জন্মায় সারাজীবন কষ্ট ভোগ করতে। এই কষ্ট একটা সময়ে এমন জায়গায় চলে যায় যে মানুষ নিজেকে শেষ করতে বাধ্য হয়। এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন মানুষ মনে করে যে তাদের আর কিছু পাওয়ার নেই এই পৃথিবী থেকে, তাই নিজেকে শেষ করে দেওয়াই একমাত্র রাস্তা। আজকের দিনে মানসিক কষ্ট যে শারীরিক কষ্টের চেয়েও কত ভয়ংকর, তা বলে বোঝানো একেবারেই সম্ভব নয়।
আরও পড়ুনঃ লজ্জায় মুখ লাল পাকিস্তানের! এ কী দুর্দশা; এর খরচও জোগাতে পারছে না পাকিস্তানিরা
বিশেষ করে বড়দের চেয়েও ছোটদের, বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে টিনেজারদের, ‘মেন্টাল হেলথ’এর দিকে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি সকল মা-বাবার। খোঁজ নেওয়া উচিত কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাঁদের সন্তান। আজ ‘বঙ্গবার্তা‘ এমনই একটি দুঃখজনক ঘটনার কথা তুলে ধরবে নিজেদের পাঠক-বন্ধুদের কাছে। যে নাবালক সর্বদা মানবসেবায় বিশ্বাসী, তাকেই যে এভাবে কষ্ট পেয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে, তা হয়তো স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি তার মা-বাবা।

ঘটনাটি কালীঘাটের বাসিন্দা শৌর্য্য সরকার নামে এক স্কুলপড়ুয়ার। সহপাঠীদের লাগাতার র্যাগিং তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল মানসিকভাবে এবং শেষমেষ সে নিজেকে শেষ করে দিতে বাধ্য হয়।
‘বঙ্গবার্তা’র তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয় শৌর্য্য সরকারের পরিবারের সঙ্গে। কিন্তু তাঁরা এই ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা সহ স্থানীয় দোকানদারদের থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে দিনের পর দিন শৌর্য্যর বন্ধুরা তাকে নানাভাবে হেনস্থা করতো।

স্কুলে যে তাঁর উপর রীতিমতো অত্যাচার চলত, তা সে বাড়ির লোককে মুখ ফুটে বলতে পারেনি। এভাবে চলতে থাকায় একদিন সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পরিবারের উপর নেমে আসে শোকের ছায়া। এমনকি তার বন্ধুরা ছিল রাসবিহারীতে অবস্থিত গুরুদ্বারা পার্কের বাচ্চারাও।

তাদের থেকেও আমরা জানতে পেরেছি যে কিভাবে বিপদে শৌর্য্য তাদের পাশে দাঁড়াতো। সৌর্য এতটাই সকলকে আপন করে নিতে পারত যে রাস্তায় থাকা সারমেয়গুলো পর্যন্ত তার বন্ধু ছিল।
যদিও সূত্র মারফত আমরা এটাও জানতে পেরেছি যে ভরপুর প্রতিভা ছিল শৌর্য্যর। একাধিক বিষয়ে সে পারদর্শী ছিল। আট থেকে আশি, সকলেই তার (শৌর্য্যর) প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল। সত্যি বলতে, এই অল্প বয়সে তারাদের দেশে তার চলে যাওয়া শুধু তার মা-বাবা নয়, তার এলাকার কেউই মেনে নিতে পারছেন না। তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় দেখা যায় তাদের চোখে জল।
মানসিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন এলাকাবাসীরাও। ‘বঙ্গবার্তা‘র তরফ থেকে শৌর্য্য সরকারের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা। আগামীদিনে যাতে আর কোনও মায়ের কোল খালি না হয়, তার জন্য আমাদের সংবাদমাধ্যমও লড়াই চালিয়ে যাবে সমাজের কাছে এই জাতীয় খবর তুলে ধরে।









