জামাটি ইসলামিক সঙ্গে নির্বাচনী জোট করায় বিদ্রোহ ও ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি তথা এনিসিপি। রবিবার বিকেলে এই জোটের কথা জানাজানি হতেই দল থেকে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছেন দুই গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীন।
আরও পড়ুনঃ নেপথ্যে ইউনুস! অবশেষে জল্পনায় পড়ল সিলমোহর; জামাতের হাত ধরল বাংলাদেশের এনসিপি
দল জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়া করায় ভোটের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির সব কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকবেন বলে ঘোষণা করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। রবিবার রাতে ফেসবুকে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
নুসরাত কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে এনসিপি থেকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে দলীয় মনোনয়ন কিনেছিলেন। তাঁর বাড়ি দৌলতপুর উপজেলায়।
রবিবারই এনসিপির সঙ্গে সম্পর্কছেদের ষ কথা ঘোষণা করেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশের বরেণ্য নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র আজাদ খান ভাসানী। তাঁর কথায়, এনসিপি নীতিতে অবিচল থাকতে পারেনি। দলটি স্বাতন্ত্র তৈরিতে ব্যর্থ।
এদিকে, আমাদের সমর্থন নিয়ে এনসিপির প্রার্থী হতে চান না বলে ঘোষণা করেছেন সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ইউনুস সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীকে থাকায় মাহফুজ এনসিপির কোন পদে নেই সম্প্রতি তিনি উপদেষ্টা পর থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। নির্বাচনেও প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন।
এনসিপি সুত্রের খবর জামাতের সঙ্গে সমঝোতা করায় দলের একাধিক নেতা কর্মী বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন ফেসবুকে ছেড়ে গিয়েছে বিদ্রোহীদের পোস্ট।
গত বছর জুলাই অগস্ট আন্দোলনের সময় অন্তরালে থেকে গোটা অভিযানকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। এমনকী প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস মাহফুজকেই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেই মাহফুজ রবিবার রাতে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নাগরিক কমিটি ও এনসিপি জুলাইয়ের সম্মুখসারির নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল। এ দুটি সংগঠনে আমার জুলাই সহযোদ্ধারা থাকায় গত দেড় বছর আমি চাহিবামাত্র তাদের পরামর্শ, নির্দেশনা ও পলিসিগত (নীতিগত) জায়গায় সহযোগিতা করেছি।’
তাঁর মতে সেই বাস্তবতা এখন আর বিরাট করছে না। ফেসবুকে মাহফুজের বক্তব্য, আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান, স্নেহ ও বন্ধুত্ব মুছে যাবে না। কিন্তু আমি এই এনসিপির অংশ হচ্ছি না। আমাকে জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, এটা সত্য নয়। কিন্তু ঢাকার কোনও একটা আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চাইতে আমার লং স্ট্যান্ডিং পজিশন (দীর্ঘদিনের অবস্থান) ধরে রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘নূতন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক লড়াই, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা, রিকনসিলিয়েশন, দায়-দরদের সমাজসহ অনেক কথাই আমি বলেছি, যেগুলো আমার জুলাই সহযোদ্ধারা উক্ত দুটি সংগঠন থেকে বারবার বলেছেন। কিন্তু তারা এগুলো ধারণ করতেন?
আরও পড়ুনঃ ইয়ুথ পাওয়ার পটুয়াখালী’র অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সদস্য সম্মেলন–২০২৫ অনুষ্ঠিত
তাঁর কথায়, এনসিপিকে একটা বিগ জুলাই আম্ব্রেলা আকারে স্বতন্ত্র উপায়ে দাঁড় করানোর জন্য আমি সকল চেষ্টাই করেছি। কিন্তু অনেক কারণেই সেটা সম্ভব হয়নি।’
অন্যদিকে আপাতত নিষ্ক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত জানিয়ে নুসরাত তাবাসসুম ফেসবুকে লিখেছেন, ফেসবুকে নুসরাত লিখেছেন, ‘আমি খুব সংক্ষেপে কিছু বিষয় জানাতে চাই। এনসিপি তার জন্মলগ্নে আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছে গণতন্ত্রের সুষম চর্চা, নয়া বন্দোবস্ত, মধ্যপন্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা, সভ্যতাকেন্দ্রিক সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশপন্থা নিয়ে। এই প্রতিটা শব্দ আমি আমার মননে, মগজে এবং যাপনে ধারণ করি, এই শব্দগুলো আমার রাজনৈতিক স্বপ্ন। এনসিপির ঘোষণাপত্র থেকে শুরু করে এর সবগুলো লিটারেচার এ বক্তব্য ধারণ করে। এনসিপি গঠনের সময় এটি ঠিক তা–ই ছিল, যা আমি চেয়েছিলাম।’
দলের সর্বস্তরে এমন বিদ্রোহের মুখে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পরিস্থিতি সামাল দিতে নেমেছেন। তুমি বলেন জামাতের সঙ্গে তাদের কোন নীতিগত বোঝাপড়া হয়নি যেটি হয়েছে সেটি কৌশলগত জোট। যে যার রাজনীতি নিয়েই নির্বাচনী ময়দানে প্রচার চালাবে। যদিও এসডিপির বড় অংশ এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য জামাত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার জন্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। এমন দলের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়া করার অর্থ বাংলাদেশের স্বাধীনতা কামি মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা।









