ইরানের রাজধানী তেহরান সংলগ্ন জামকারান মসজিদে উড়ছে লাল পতাকা। পবিত্র নগরী কোমে অবস্থিত জামকারান মসজিদ-এর গম্বুজে প্রতীকী লাল পতাকা উত্তোলন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দেশের সুপ্রিম নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর বদলা নিতে এবার বড় পদক্ষেপের পথে তেহরান। ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকে তেমনই ইঙ্গিত মিলছে।
আরও পড়ুনঃ করাচি জুড়ে জারি হাই অ্যালার্ট, সংঘাতের আঁচ পাকিস্তানেও
শিয়া ইসলামি প্রতীকে লাল পতাকা সাধারণত ‘শহদত’ ও ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের অঙ্গীকার’-এর বার্তা বহন করে। বিশেষ করে কোনও বিশিষ্ট ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু হলে এই পতাকা ইঙ্গিত দেয় যে, ‘রক্তের হিসাব এখনও বাকি’। ফলে জামকরান মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে এই পতাকা উত্তোলনকে কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, এটিকে ইরানের কড়া বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইরানে ধর্মীয় প্রতীক বহুবার রাজনৈতিক বার্তা বহন করেছে। লাল পতাকা সেই ধারারই অংশ, যেখানে ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি জাতীয়তাবাদ ও প্রতিরোধের আবেগ জড়িয়ে থাকে। যদিও এই প্রতীকী পদক্ষেপের পর ইরানের তরফে কোনও নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি। তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি যে আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মসজিদে লাল পতাকা ওড়ানোর বাস্তব প্রতিফলন কী হবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির উপর।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়িতে হাজির কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা
অন্যদিকে খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে ইরানের সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে, খামেনেই কীভাবে নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, কীভাবে বিশ্বের উদ্ধত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ইরানে বর্তমানে শোকের আবহ। সেই খবর পড়তে গিয়েই অঝোরে কেঁদে ফেললেন সংবাদপাঠক। ইরানের সংবাদমাধ্যমের সেই ভিডিয়ো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনেইয়ের মৃত্যুর দাবি করেন। পরে খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ইরানের স্টেট টিভি। সে দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। VISEGRAD24 নামে ইরানের এক সংবাদমাধ্যমের ভিডিয়ো ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, আল্লাহু আকবর বলে সংবাদপাঠ শুরু করছেন ওই অ্যাঙ্কর। তারপর আস্তে আস্তে খামেনেইয়ে মৃত্যুর খবর পাঠ করছেন। বলছেন কীভাবে শহিদ হয়েছেন, কী কাজ করেছিলেন তিনি। এ কথা বলতে বলতেই অঝোরে কেঁদে ফেলেন অ্যাঙ্কর।









