রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ক্রিকেটে নন্দনকাননে ডু অর ডাই ম্যাচ খেলতে নামে ভারত। এই ম্যাচের ওপর ভারতের সেমির ভাগ্য নির্ভর করছিল। সঞ্জু ঝড়ে উড়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। কালীঘাটে পুজো দেওয়া সার্থক হল সূর্যদের হেড স্যার গৌতম গম্ভীরের। ক্যারিবিয়ানদের উড়িয়ে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল সূর্যরা।
আরও পড়ুনঃ পরিস্থিতি জটিল! ওমানে ইরানি হামলায় নিহত ১৫ ভারতীয়
টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার রোস্টন চেজ ২৫ বলে ৪০ রান ও শাই হোপ ৩৩ বলে ৩২ রান তুলে সাজঘরে ফেরেন। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৭(১২) রান তোলেন। রভম্যান পাওয়েল ১৯ বলে ৩৪ রান ও জেসন হোল্ডার ২২ বলে ৩৭ রান তুলে অপরাজিত ছিলেন। ভারতের হয়ে হার্দিক পান্ডিয়া ও বরুণ চক্রবর্তী ১ টি এবং জশপ্রীত বুমরা ২ টি উইকেট নেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার অভিষেক শর্মা মাত্র ১০(১১) রান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন। আরেক ওপেনার সঞ্জু স্যামসন বাইশ গজে ঝড় তোলেন। ৫০ বলে ৯৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে গেলেন। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ১২ টি চার ও ৪ টি ছয় দিয়ে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ১৬ বলে ১৮ রান তুলে ক্যাচ আউট হন। তিলক বর্মা ২৭(১৫) রান, হার্দিক পান্ডিয়া ১৭(১৪) রান তুলে সাজঘরে ফেরেন। সঞ্জুকে যোগ্য সঙ্গ দেন শিবম দুবে। ৪ বলে ৮ রান তুলে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ক্যারিবিয়ানদের হয়ে জেসন হোল্ডার ও শামার জোসেফ ২ টি এবং আকিল হোসেন ১ টি করে উইকেট সংগ্রহ করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে সেমিতে ভারত।
ভাগ্য কাকে কোথায় নিয়ে যায় ! একমাস আগেও ভারতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন না সঞ্জু স্যামসন। ক্রমাগত বাইরে বসতে হচ্ছিল তাঁকে। বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছিলেন নামিবিয়া ম্যাচে, কারণ অভিষেক শর্মা ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। সেখান থেকে আজকের ইডেন দেখল সঞ্জুর পুনর্জন্ম। ৫০ বলে ৯৭ রান করে তিনি প্রমান করলেন, সুযোগ পেলে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তাঁর ব্যাটিং। তাঁর ব্যাটের জোরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ভারত পৌঁছে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ চারে। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে যে বিদায় হয়েছিল ভারতের, ২০২৬ সালে সেই ভয়ঙ্কর ক্যারিবিয়ানকে হারিয়ে যেন একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন সূর্যরা।
টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিং করতে পাঠিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। ভাল শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার শাই হোপ ও রস্টন চেজ। পাওয়ার প্লেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছিল বিনা উইকেট হারিয়ে ৪৫। সপ্তম ওভারে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বরুণ চক্রবর্তী। ভাল শুরু করেও হেটমায়ার আউট হলেন ২৭ রানে। একই ওভারে হেটমায়ারসহ ২ উইকেট নিয়ে ভারতকে ম্যাচে ফেরালেন বুমরা। জেসন হোল্ডার ও রোভম্যান পাওয়েল পঞ্চম উইকেটে গড়লেন ৭৬ রানের পার্টনারশিপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০০র মধ্যে আটকে রাখলেও সাদামাটা বোলিং ভারতীয় ইউনিটের। ২০ ওভারে ১৯৫ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হার্দিক পান্ডিয়া ও বরুণ চক্রবর্তী – দু’জনেই ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়েছেন। দু’জনেরই ভাগ্যে ১ উইকেট।
আরও পড়ুনঃ জামকারান মসজিদে লাল পতাকা! চরমতম বদলার পথে ইরান!
ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই আউট হয়ে যান অভিষেক শর্মা (১০)। চলেননি ঈশানও (১০)। বিশ্বকাপে একমাত্র আমেরিকা ম্যাচ বাদ দিয়ে প্রতি ম্যাচেই ফ্লপ অধিনায়ক সূর্য। আজ করলেন ১৮। তিলক ভার্মা (২৭) ভাল শুরু করেও আউট হয়ে যান। তারপর থেকে শুধুই ‘নিম্ন-মধ্যবিত্ত’ সঞ্জুর ম্যাজিক। কত ম্যাচে স্রেফ বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন ! এই বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দলের ভাবনায় ছিলেন না তিনি। অভিষেকের বদলে দলে এসেছিলেন। আজ যেন যাবতীয় অপমান, যাবতীয় ব্যর্থতাকে স্টেপ আউট করে ইডেনের বাইরে ফেললেন সঞ্জু। এর আগে ভারতের হয়ে রান তাড়া করে সবথেকে সফল ইনিংস ছিল বিরাট কোহলির। ২০২২ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমসিজিতে কোহলি করেছিলেন ৮২। আজ তাঁকেও টপকে গেলেন সঞ্জু। ম্যাচের সেরা তিনিই।
আগামী ৫ মার্চ সেমিফাইনালে মুম্বইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত। ২০২২ সালের সেমিফাইনাল নিশ্চয়ই মনে আছে বুমরার। সেই ম্যাচে ১০ উইকেটে ভারত পরাজিত হয়েছিল এই ইংল্যান্ডের কাছেই। হেলস ও বাটলারের ব্যাটে ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। এবার সেই রেকর্ড বদলাতে চাইবেন সূর্যকুমার। ক্রিকেটের নন্দনকাননে ভারতীয় সমর্থকদের আগাম হোলি উপহার দিলেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর পুনর্জন্মেই ফিকে হয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘ভয়ঙ্কর’ দলগত লড়াই। ইডেন যে এভাবেই নিজের নায়ককে বেছে নেয়।









