Tuesday, 24 March, 2026
24 March
Homeসমস্তSaraswati Puja 2026: সরস্বতী ফুটপাথে, পুজো করতে পারল না পড়ুয়া থেকে সাধারণ...

Saraswati Puja 2026: সরস্বতী ফুটপাথে, পুজো করতে পারল না পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ

সরস্বতী ঠাকুরের শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হল 12 নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ফুটপাতে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ফের সরস্বতী পুজো ঘিরে বিতর্ক। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উত্তর 24 পরগনার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিযোগ, স্কুল গেটে তালা দেওয়া থাকায় ঠাকুর এনেও সেখানে পুজো করতে পারল না পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ। পুলিশি বাধার মুখে পড়ে সরস্বতী ঠাকুরের শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হল 12 নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ফুটপাতে। পুরোহিত এনে সেখানেই কোনোরকমে পুজো সারলেন এলাকার লোকজন।

গোটা ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। স্কুল প্রাঙ্গণে কেন সরস্বতী পুজো করা যাবে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দাদের একাংশ।

আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন! সরস্বতী পুজার ‘ছুটি’র সন্ধ্যায় জরুরি শুনানি কলকাতা হাইকোর্টে

যদিও, বিজেপির লোকজন প্রচারের আলোয় থাকার জন্য এই ধরনের অবান্তর অভিযোগ করছেন বলে দাবি শাসক দলের। পাল্টা, বিজেপির হুঁশিয়ারি, ক্ষমতায় এলে তারা এই স্কুলে সরস্বতী পুজো করে দেখিয়ে দেবে। এই নিয়ে অবশ্য মুখ খুলতে চায়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে, মুখ খুলেছেন বারাসত জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “গন্ডগোলের আশঙ্কায় পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। কয়েকজন জোরজবরদস্তি করার চেষ্টা করছিল সেখানে। অতি সক্রিয়তা কিংবা বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। পুলিশ খুব শান্তভাবে গোটা পরিস্থিতির সামাল দিয়েছে।”

বারাসতের 12 নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই অবস্থিত ময়নাগদি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। উত্তর 24 পরগনার দত্তপুকুর থানা এলাকায় অবস্থিত এই স্কুলে প্রথম শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা হয়ে থাকে। এলাকাটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। তাই, পিছিয়ে পড়া অংশের শিশুদেরই মূলত পড়াশোনার প্রাথমিক পাঠ দেওয়া হয় এই স্কুলে। রাজ‍্যের বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজে যখন মহাসমারোহে বাগদেবীর আরোধনা চলছে, তখন বারাসতের এই অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেল ঠিক এর উল্টো ছবি!

স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের একাংশের দাবি, পুজোর দিন সকালে তারা স্কুলে এসে দেখে সমস্ত শ্রেণীকক্ষের দরজা বন্ধ। সেখানে ঝুলছে বড় বড় তালা। বেশ কিছুক্ষণ সময় পেরিয়ে গেলেও স্কুল চত্বরের আশপাশে দেখা মেলেনি দিদিমণিদের। পরিস্থিতির হালহকিকত দেখে পড়ুয়াদের অনেকেরই বুঝতে অসুবিধে হয়নি, এবার স্কুল প্রাঙ্গণে সরস্বতী পুজো হচ্ছে না। এর পরেই আসরে নামতে দেখা যায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে। কয়েকজন বিজেপি নেতাও সশরীরে হাজির হয়ে যান স্কুল প্রাঙ্গণে। ঘটনার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে, সেই আশঙ্কায় আগে থেকেই বিশাল পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল স্কুল চত্বরে।

এদিকে, বেশ কিছু পড়ুয়া ও এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি নেতারা ঠাকুর এনে স্কুল প্রাঙ্গণে সরস্বতী পুজো করার উদ্যোগ নেয়। অভিযোগ, পুলিশ পুজো করতে বাধা দেয় সেখানে। বাধা পেয়ে শেষে জাতীয় সড়কের ফুটপাতেই বিদ‍্যার দেবীর আরোধনা করতে হয় উদ্যোক্তাদের।

আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিল না ভারত! একঘরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

বিজেপি নেতা প্রতীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে অসংখ্য স্কুল রয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি হিন্দু পড়ুয়ারাও পড়াশোনা করে। সেরকমই একটি স্কুল বারাসতের ময়নাগদি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু, সেই স্কুলেই এবছর পুজো করতে দেওয়া হল না। পরিস্থিতি এরকম হতে পারে বুঝতে পেরে কয়েকদিন আগে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তরফে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে সরস্বতী পুজোর বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সেই সময়ও পুলিশ ডেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, সরস্বতী পুজোর অনুমতি দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ লেলিয়ে বাগ দেবীকে এদিন বাইরে বের করে দেওয়া হল। হিন্দু পড়ুয়ারা স্কুলে পুজোর অঞ্জলি দিতে পারল না। আমরা বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা করি। পশ্চিমবঙ্গও কোনও অংশে বাংলাদেশের থেকে পিছিয়ে নেই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এর পরিবর্তন করে দেখাবে। এই স্কুলেই আমরা পুজো করে ছাড়ব।”

অন‍্যদিকে, পাল্টা জবাব দিয়েছে শাসক শিবির। খিলকাপুর অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি সুশান্তকুমার মণ্ডল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কোথাও সরস্বতী পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, এমন কোনও নজির নেই। সব জায়গাতেই সুষ্ঠুভাবে পুজো হচ্ছে। প্রতিটি স্কুলে সরস্বতী পুজোর দায়িত্বে থাকেন দিদিমণিরা। পড়ুয়া এবং অভিভাবকরা তাঁদের সাহায্য করে থাকেন। এখানেও যদি দিদিমণি এবং পড়ুয়ারা পুজো করতে চান, করবেন। কিন্তু, তার মানে এই নয় যে বিজেপি সেখানে গিয়ে মাতব্বরি করবে। আসলে ওরা এসব করে প্রচারের আলোয় থাকতে চাইছে। বিজেপির নেতারা এখানে বড় বড় কথা বলছে। বিহারে সরস্বতী পুজো করতে হলে অনুমতি নিতে হয়। বাংলায় এসব হয় না।”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন