বিশেষ প্রতিবেদন:
দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) এক ভয়াবহ সাইবার হানার মুখে পড়েছে। ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে যাওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। বুধবার এক এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ে ব্যাঙ্কের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের ৩৮৯৭ জন গ্রাহকের ‘পারসোনাল আইডেন্টিফিয়েবল ইনফরমেশন’ বা ব্যক্তিগত শনাক্তযোগ্য তথ্য হাতবদল হয়ে ডার্ক ওয়েবে চলে গিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসতেই দেশজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এ বছর জোড়া সপ্তমী, আগামী বছর জোড়া অষ্টমী! উৎসবপ্রেমীদের কাছে বাড়তি উৎসাহ
ফাঁস হওয়া তথ্যের পরিমাণ ও প্রকৃতি
ব্যাঙ্ক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডার্ক ওয়েবে পাওয়া প্রায় ৩,৭৫,০০০ রেকর্ডের মধ্যে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে ৩,৮৯৭ জন গ্রাহকের নির্দিষ্ট রেকর্ড শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ফাঁস হয়ে যাওয়া ডেটার মধ্যে গ্রাহকদের নাম, নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, ইমেল ঠিকানা এবং স্থায়ী আবাসিক ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া ব্যাঙ্কের নথি সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন— শাখা ও গ্রাহক তথ্য ফাইলের (CIF) শনাক্তকারী, লিড আইডি, ঋণ সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য সম্পর্কিত মেটাডেটাও হাতবদল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি যেভাবে সামনে আসে
এসবিআই জানিয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাদের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস প্রোভাইডার, ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি এবং CERT-In (ইন্ডিয়ান কম্পিউটার এমার্জেন্সি রেসপন্স টিম)-এর কাছ থেকে একটি সতর্কবার্তা আসে। সেই অ্যালার্টেই ডার্ক ওয়েবে ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের ডেটা ফাঁস হওয়ার তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
এর আগে প্রকাশিত কিছু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ‘ব্রীচফোরামস’ (BreachForums) নামক ডার্ক ওয়েব ফোরামে একটি বেনামী হ্যাকার গোষ্ঠী ৩.৭৫ লক্ষ এসবিআই গ্রাহকের ডেটা নিজেদের দখলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তবে আজকের বিবৃতিতে এসবিআই সরাসরি কোনো হ্যাকার গোষ্ঠীর নাম স্পষ্ট করেনি।
মূল চালিকাশক্তিতে প্রভাব নেই, জারি কড়া নজরদারি
তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটলেও ব্যাঙ্কের মূল পরিষেবা বা কার্যক্রমে কোনো আঁচ পড়েনি বলে স্পষ্ট করেছে কর্তৃপক্ষ। এসবিআই-এর বক্তব্য, “ব্যাংকের মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম কোনো রকম বাধা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে সচল রয়েছে। সাইবার সংক্রান্ত অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলা ও তা নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট প্রোটোকল দ্রুত সক্রিয় করা হয়েছে।”
বর্তমানে তথ্য ফাঁসের উৎস, এর মাত্রা এবং এর ফলে ব্যাংক ও গ্রাহকদের কী ধরনের আর্থিক বা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। যে ৩৮৯৭ জন গ্রাহকের তথ্য ফাঁস নিশ্চিত হয়েছে, তাঁদের সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান চলছে এবং প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক বিধি মেনেই প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া।


