প্রথমে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা, পরে জনতা উন্নয়ন পার্টি তৈরি করে রাজ্য রাজনীতিতে চমক দিয়েছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবির । তৃণমূলের এই প্রাক্তন নেতার সঙ্গেই এবার বৈঠক করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ।
বুধবার রাতে নিউটাউনের একটি হোটেলে ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় কথা হয় দুই নেতার । তবে জোট করে ভোটে লড়া হবে কি না তা খোলসা করেননি সেলিম । বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “বহুদিন ধরেই নানাভাবে বার্তা পাঠাচ্ছিলেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য শুনতে এবং তাঁকে বুঝতে আসা। এটা জোট-বৈঠক নয় । ” হুমায়ুনের আবার দাবি, বিধানসভা নির্বাচন নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে একছাতার তলায় নিয়ে এসে 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করতে চায় সিপিএম । বিগত কয়েক মাস ধরে বারবার এই বার্তাই দিচ্ছেন সেলিম থেকে শুরু করে দলের অন্য নেতারা । কয়েক ধাপ এগিয়ে সেলিম এটাও বলেছেন, “তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তি-ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে আমরা স্বাগত জানাব। অন্যায় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যাঁরা লড়তে চান তাঁদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করব। নিজেদের বিত্ত বাড়াব। আর তাই বামফ্রন্টের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও আলোচনায় বসব।”
স্বভাবতই এই বক্তব্যে কংগ্রেসের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে এখনও জোট-বৈঠক হয়নি আলিমুদ্দিনের । তাছাড়া গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবারও কংগ্রেস বামেদের হাত ধরবে কিনা এবং তাতে সাফল্য পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে বিস্তর সংশয় আছে সিপিএম ও বামফ্রন্টের অন্য দলগুলির মধ্যে । শুধু সংশয় থাকা নয়, সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মসূচি থেকে কংগ্রেস প্রসঙ্গে সুরও চড়িয়েছেন সেলিম । এখান থেকেই হুমায়ুনের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য় সম্পাদকের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।
কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে সংশয় থাকার পাশাপাশি হাত শিবিরের প্রাক্তন নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিমের বৈঠকের আরও কয়েকটি দিক আছে । মুর্শিদাবাদের বিধায়ক যে কায়দায় রাজনীতি করেন তার থেকে সিপিএমের কৌশল সম্পূর্ণ আলাদা । হুমায়ুন বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা করেন । পাশাপাশি তিনি প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করেন যা অন্য কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানে বলেও অভিযোগ ওঠে বারবার । আর সিপিএমের অবস্থান একদম উল্টো ।
আরও পড়ুনঃ বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই; আজ বৃহস্পতিবারে বাংলার আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আর তাই এই বৈঠক সব দিক থেকেই বিশেষ । তবে হুমায়ুনের সঙ্গে জোট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলে দাবি সেলিমের । বৈঠক শেষে তিনি বারবার জানান, হুমায়ুন একাধিকবার যোগাযোগ করেছিলেন বলেই তাঁর কথা শুনতে এসেছিলেন । সেলিমকে বলতে শোনা যায়, “জোট নিয়ে আলোচনা হলে সেটা আলিমুদ্দিনে হত, এখানে নয় ।”
সেলিম যতই অস্বীকার করুন না কেন, হুমায়ুনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রবল তরজা শুরু হয়েছে । বিধানসভা ভোটের আগে অন্য বাম শরিকদের পাশাপাশি নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গেও কথা বলেছে সিপিএম । এবার কংগ্রেসের আগেই হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক করলেন সেলিম । আর সেটাই চর্চার অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে । এই বৈঠক আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতির কোনও নতুন সমীকরণের সূচক হয়ে ওঠে কিনা সেটাই এখন দেখার ।





