পাকিস্তানে মুখোমুখি ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধি। কথা হল যুদ্ধ থামানো নিয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত সমাধানসূত্র মেলেনি। তবে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরান-আমেরিকার শান্তি চুক্তি নাকি হয়েই যাচ্ছিল! একটা ফোন আসার পরই সব গড়বড় হয়ে গেল। কে ফোন করেছিল?
তেহরানের দাবি, ইরান-আমেরিকার শান্তি চুক্তি নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল, তখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের কাছে ফোন আসে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর। তারপরই সব গড়বড়। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাগাচি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান যে ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কেন আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা হল না।
আরও পড়ুনঃ চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের; ভোটের আগে কী চলছিল শিলিগুড়িতে?
তিনি লেখেন, “বৈঠক চলাকালীন জেডি ভান্সের কাছে নেতানিয়াহুর ফোন আসার পরই আলোচনার ফোকাস আমেরিকা-ইরান সমঝোতা থেকে সরে ইজরায়েলের আগ্রহের উপরে চলে যায়। যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকা যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার মাধ্যমে অর্জন করার চেষ্টা করেছে আমেরিকা।”
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন যে পাকিস্তানের আয়োজিত এই বৈঠকে বিশ্বাস নিয়েই অংশ নিয়েছিল ইরান। যাওয়ার আগে জেডি ভান্সের সাংবাদিক বৈঠকও অপ্রয়োজনীয় ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে ফের একবার জানিয়ে দেন যে ইরান নিজেদের দেশের নাগরিকদের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে প্রস্তুত।
এদিকে, ওয়াশিংটন এখনও পর্যন্ত নেতানিয়াহুর ফোন করা নিয়ে ইরানের দাবিকে অস্বীকার বা স্বীকার-কিছুই করেনি।
আরও পড়ুনঃ ‘মধ্যরাত থেকে অপারেশন শুরু হবে’; আশঙ্কা মমতার
ইরানের দাবি, আমেরিকা সমঝোতা বৈঠকে একাধিক অবাস্তব দাবি রেখেছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে শুধু মুক্ত যাতায়াতই নয়, পাশাপাশি ইরানের ইউরেনিয়াম প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া এব মজুত ইউরেনিয়াম তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিও নাকি রেখেছিল। ইরান সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।
এদিকে, ইরান-আমেরিকার আলোচনা ব্যর্থ হতেই বিশ্ব জুড়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত ক্রুড তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



