ঘুরে দাঁড়ানার কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে না, মারাত্মক ধস নেমেই চলেছে বাজারে। সপ্তাহের শুরুতেই কালো সোমবারের সাক্ষী থাকল মার্কেট। ভয়াবহ অবস্থা শেয়ার বাজারের সূচকে। একদিন ১৮০০ পয়েন্ট পড়ে গেছে সেনসেক্স। যা দেখে হাহাকার পড়ে গেছে শেয়ার বাজারে।
সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস নেমেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে লগ্নিকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একদিনের লেনদেনে বিএসই (BSE) তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির বাজার মূলধন প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকা কমে গেছে।
আরও পড়ুনঃ কালই বড় ঘোষণা, জরুরি বৈঠকে মোদি; দাম বাড়বে রান্নার গ্যাস, পেট্রোল-ডিজেলের!
এদিন সেনসেক্স (Sensex) ১,৮৩৭ পয়েন্ট (২.৪৬%) কমে থিতু ৭২,৬৯৬-পয়েন্টে থিতু হয়েছে। পাশাপাশি নিফটি ৫০ (Nifty 50) ৬০২ পয়েন্ট (২.৬%) কমে দাঁড়িয়েছে ২২,৫১২ পয়েন্টে। যেখানে মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ ইনডেক্স দুটিতেই প্রায় ৪% হারে ধস নেমেছে।
ধসের ৫ কারণ
১. আমেরিকা–ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার বদলে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডিয়েগো গার্সিয়া-তে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলার খবরে লগ্নিকারীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
২. টাকার দামে রেকর্ড পতন
আজ ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম ২৬ পয়সা কমে ৯৩.৯৭ টাকায় পৌঁছেছে, যা এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন। টাকার দাম কমলে বিদেশি লগ্নিকারীরা বাজার থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্টক মার্কেটে।
৩. জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি : ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত তার প্রয়োজনের ৮০% তেল আমদানি করে। তেলের দাম বাড়লে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে দেশের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধিতেও টান পড়বে।
৪. বিদেশি লগ্নিকারীদের (FPI) শেয়ার বিক্রি:
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিদেশি লগ্নিকারীরা ভারত থেকে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন। শুধুমাত্র মার্চ মাসেই এনএসডিএল (NSDL)-এর তথ্য অনুযায়ী ১,০৩,৯৬৭ কোটি টাকা বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে।
ভারত একা নয়, আজ এশিয়ার অন্যান্য বাজার যেমন জাপানের নিক্কেই এবং কোরিয়ার কোস্পি প্রায় ৬% পর্যন্ত পড়ে গেছে। ইউরোপীয় বাজারগুলোতেও ২% পর্যন্ত পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বজুড়ে এই মন্দার ভাব ভারতীয় বাজারেও বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।
( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। বঙ্গবার্তা কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না। )



