বিশেষ প্রতিবেদন:
শারদোৎসবের আনন্দের মধ্যেই বিজয়া দশমীর সকালে পূর্ব বর্ধমান জেলায় নেমে এল গভীর বিষাদের ছায়া। পৃথক দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৫ জনের অকালমৃত্যু ঘটেছে। বর্ধমান-আরামবাগ ৭ নম্বর রাজ্য সড়কে লরির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে একই গ্রামের তিনজনের। অন্যদিকে, ভাতারে ঠাকুর দেখে বাইকে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুই যুবক। উৎসবের মরশুমে পরপর দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তীব্র শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এলাকাগুলিতে।
আরও পড়ুনঃ বিসর্জনের সময়ই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু তিনজনের
রায়নায় লরির ধাক্কায় বাজিতপুরের ৩ বাসিন্দার মৃত্যু
বুধবার সকালে প্রথম মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার মিরেপোতা জহুরী পুকুর এলাকায়, একটি পেট্রোল পাম্পের ঠিক সামনে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম কামাখ্যা রায় (৬১), নাড়ুগোপাল রায় (৪৫) এবং শ্রীকান্ত রায় (৪১)। নিহত তিনজনেরই বাড়ি সেহারা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজিতপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে একটি মোটরসাইকেলে চেপে পেট্রোল পাম্পের দিকে যাচ্ছিলেন ওই তিনজন। রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাম্পে প্রবেশের সময় বর্ধমানমুখী একটি দ্রুতগামী লরি সজোরে তাঁদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে তিনজনেই গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়না থানার সেহারাবাজার ফাঁড়ির পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে যান রায়নার ট্রাফিক ইনস্পেক্টর আনন্দ গোপাল সেনগুপ্ত, সেহারাবাজার ফাঁড়ির আইসি রনেন্দ্র মণ্ডল এবং সেহারাবাজার ট্রাফিক গার্ডের ওসি রক্তিম দত্ত। পুলিশ দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ঘাতক লরিটিকে পুলিশ আটক করলেও চালক পলাতক।
ভাতারে ঠাকুর দেখে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিহত ২ যুবক
অন্যদিকে, বিজয়ার আগের রাতে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে ঘটেছে আরও এক মারাত্মক দুর্ঘটনা। প্রতিমা দর্শন শেষে বাইকে চড়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ হারিয়েছেন দুই যুবক। মৃতদের নাম মনোজ পাল (৩০) এবং জিৎ মাঝি (১৯)। দু’জনেই ভাতারের পারহাট গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ভাতারের ছয় মাইল থেকে হলদি যাওয়ার রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বর্ধমান শহরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখে একই বাইকে চেপে পারহাট গ্রামে নিজেদের বাড়িতে ফিরছিলেন মনোজ ও জিৎ। পারহাট গ্রামের শ্মশানের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে ভাতার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এক যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। অপরজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বর্ধমান হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরও মৃত্যু হয়। বুধবার পুলিশ দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং দুর্ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।


