ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু শঙ্করাচার্য। এবার সরব হলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বিরুদ্ধে। দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর একটি মন্তব্য। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের হিন্দু জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে দেওয়া পরামর্শের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বেশ কড়া ভাষায় বলেছেন যে, “সঙ্ঘপ্রধানকে প্রথমে বিয়ে করা উচিত। অন্তত তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়ে তারপর তাঁর ফৌজকে একই কাজ করতে বলা উচিত।”
আরও পড়ুনঃ নেতৃত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ! বিনয় কোঙারের ছেলের পোস্টে সিপিএমে বিদ্রোহের সুর
এই মন্তব্য নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন প্রো-হিন্দু বলে পরিচিত ব্যক্তিদের প্রতি শঙ্করাচার্যের এমন বিরোধিতার কারণ কী?মোহন ভাগবত গত কয়েক বছরে একাধিকবার হিন্দু সমাজকে অন্তত তিনটি সন্তান জন্ম দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি ছিল, হিন্দু জনসংখ্যার হার ক্রমাগত কমছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেছেন, পরিবারগুলোকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং দেশের জনসংখ্যা নীতির প্রেক্ষিতে সকলেরই এই দায়িত্ব নেওয়া উচিত। এই বক্তব্যকে অনেক হিন্দু সংগঠন সমর্থন করলেও, কিছু ধর্মীয় নেতা এতে ভিন্ন মত পোষণ করছেন।স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দের এই জবাবকে অনেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখছেন। তিনি সরাসরি মোহন ভাগবতের ব্যক্তিগত জীবনকে টেনে এনে বলেছেন যে, যিনি নিজে সংসারী নন, তিনি কীভাবে অন্যদের সন্তান জন্ম দেওয়ার উপদেশ দিতে পারেন?
আরও পড়ুনঃ কার্শিয়ঙের বিজেপি মন্দিরের ‘বিষ্ণু’-র ‘প্রসাদ’ তৃণমূলে! ঘাসফুলে বিজেপির বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা
অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী শঙ্করাচার্য পীঠের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করেন যে, হিন্দু ধর্মের মূল শক্তি তার আধ্যাত্মিকতা, সনাতন মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিগত সাধনায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির মতো বিষয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ধর্মের অপমান। স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ অতীতেও মোহন ভাগবতের বিভিন্ন মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন যেমন মন্দির-মসজিদ বিতর্ক নিয়ে নীরবতা, জাতিভেদ নিয়ে বক্তব্য ইত্যাদি। তিনি মনে করেন, আরএসএসের হিন্দুত্ব অনেক সময় রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা সত্যিকারের সনাতন ধর্মের সঙ্গে মেলে না।









