শুভজিৎ মিত্র,কলকাতা
“বাংলাদেশ” গোটা উপমাদেশীয় অঞ্চলে,ভারতের জন্য হয়ে ওঠা নয়া উদ্বেগের কারণ! দেশটার বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ভারতকেও যথেষ্ট চিন্তার মধ্যে ফেলেছে।গত,২০২৪ সালের আগস্ট মাসে,প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই দেশটা ক্রমেই “মৌলবাদ” ও “ভারত বিরোধী” কার্যকলাপে উদ্যোগী হচ্ছে,যা ভারতে জন্য মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে!
এমতবস্থায়,কূটনৈতিক দিক থেকে একটা সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছে,সেখানকার অন্যতম প্রধান দল “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল”।তাদের পক্ষ থেকে ভারতের সাথে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর বিষয়ে,সদর্থক কিছু বক্তব্য শোনা গেছে,বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে।যা,”ইন্দো-বাংলা” কটূনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ খালেদার ছেলের দেশে ফেরা কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের জন্য
কেন ভারতের বিএনপির সাথে সখ্যতা বাড়ানো প্রয়োজন?
৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের কৌশল এবং বিএনপির সাথে সম্পর্কের বিষয়টি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।এমতবস্থায় যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার দেখে নেওয়া যাক্,ষয়গুলি খতিয়ে দেখার দেখে নেওয়া যাক্,
* ভারসাম্য রক্ষা বা Pragmatic Diplomacy:
দীর্ঘ ১৫ বছর ভারত মূলত আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির নির্বাচনে জয়ের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই একটি নির্দিষ্ট দলের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের সব প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সাথে সুসম্পর্ক রাখা ভারতের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের জন্য জরুরি।
* আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা:
বিএনপি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা (সেভেন সিস্টার্স) এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন বা সম্ভাব্য ক্ষমতাসীন দলের সহযোগিতা অপরিহার্য। বিএনপি নেতারাও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা ভারতের সাথে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার’ ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।
* জনমতের গুরুত্ব:
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি যে নেতিবাচক মনোভাব বা ‘ভারত-বিরোধিতা’ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতে বিএনপি বা অন্যান্য দলের সাথে সংলাপ করা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।
* চীন ও পাকিস্তানের প্রভাব কমানো:
বাংলাদেশ যদি ভারতের থেকে রাজনৈতিকভাবে দূরে সরে যায়,তবে চীন ও পাকিস্তানের প্রভাব বাড়ার ঝুঁকি থাকে।যদি,বিএনপির সাথে গঠনমূলক আলোচনা এই শূন্যতা পূরণে সহায়তা করতে পারে।
* অতীতের তিক্ততা:
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার মতো ঘটনাগুলোর কারণে ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এখনো এক ধরণের অবিশ্বাস কাজ করে।
* জামায়াত ফ্যাক্টর:
জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপির সম্পর্ক ভারতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব তৈরির খবর দিল্লির নীতিনির্ধারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ সপরিবার বাংলাদেশে হামলার শঙ্কা নিয়ে পা রাখলেন তারেক
বর্তমানের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অবস্থান
বর্তমানে,সূত্রের থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী,ভারত সরকার ‘পিপল-সেন্ট্রিক’ বা জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে।ভারতীয় হাই কমিশনার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে বিভিন্ন সময় বৈঠক করেছেন।যা,একটি ‘কার্যকর কর্মসম্পর্ক’ বা “Working Relationship” তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।তারেক রহমানও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের সাথে সখ্যতার ক্ষেত্রে,বাংলাদেশের স্বার্থ এবং “ন্যায্য হিস্যা”,যেমন- তিস্তা জল বণ্টন,সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।
আভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ ও বাধা
যতটা বলা সহজ,বর্তমানে ঠিক সেই কাজটাই কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।কারণ,এতদিনের পুরোনো বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের বিরোধী পক্ষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা,মোটেই সহজ কাজ নয়। আপাতদৃষ্টিতে,হয়ত বিএনপির সাথে সখ্যতা ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকে প্রায়োজন।তবে,মনে রাখতে হবে সবসময়ে পরিস্থিতি এক থাকে না,তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে,আজকের ঠিকটাই কালকে ভুল হয়ে যেতে পারে।তাই প্রতিটা পদক্ষেপ কিন্তু ভারতের জন্য ভারসাম্যের কূটনীতির কঠিন সমীকরণ।
শেষে একটাই কথা বলা যেতে পারে,ভারতের জন্য এখন আর “সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখার” সময় নেই।বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনমতকে সম্মান জানিয়ে বিএনপির সাথে সখ্যতা বাড়ানো ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।এটি অন্ধ বিরোধিতা বা অন্ধ সমর্থন নয়,বরং একটি ‘প্র্যাগম্যাটিক’ বা বাস্তবমুখী সম্পর্ক হওয়া উচিত









