সই হল ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তি। এই চুক্তির ফলে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্যের আরও আরও সুযোগ বাড়বে। দুই পক্ষই উপকৃত হবে এতে। এদিকে চুক্তি এখন সই হলেও এটা কার্যকর হতে আরও একবছর সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুনঃ হানিট্র্যাপের আশঙ্কা, পাকিস্তানের মহিলার কাছে যেত সব তথ্য! গ্রেফতার গুপ্তচর
এদিকে এই চুক্তি সই হওয়ার পরেই নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটা বড় চুক্তি সই হয়েছে। মানুষজন এটাকে মাদার অফ অল অল ডিলস বলে উল্লেখ করছে। এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের জনসাধারণের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে আসবে। এটি বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। এই চুক্তি গোটা বিশ্বের জিডিপির ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে।’
এদিকে চুক্তিটি সই হলেও তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে কেন? কারণ এতে ইউরোপীয় সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন। উল্লেখ্য, এই চুক্তিটি ১৮ বছরের আলোচনার পরে সম্পন্ন হয়েছে। এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল সেই ২০০৭ সালে। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত মুক্ত বণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের বাজারে বেশ কিছু ইউরোপীয় পণ্য শস্তা হতে পারে। বিলাসবহুল গাড়ি থেকে আনকাট হীরের দাম কমতে পারে ভারতে।
এছাড়া ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ড থেকে স্কচ হুইস্কি, ভদকা এবং জিনের মতো অ্যালকোহলের দাম কমতে পারে। কারণ এই সব পণ্যের ওপর শুল্ক কমতে পারে। ইউরোপের সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস থেকে ভারতে চকোলেটও আমদানি করা হয়, সেই চকোলেটের দামও কমতে পারে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিনা বা কম শুল্কে বাণিজ্য হতে পারে ৯৭%-৯৯% পণ্যের। এর ফলে ভারতের বস্ত্র, তাঁত, চামড়া, প্রক্রিয়াজাত খাবারের শিল্প লাভবান হবে। আর ইউরোপের ওয়াইন, গাড়ি, উন্নত প্রযুক্তির পণ্যের শিল্প লাভবান হবে। এদিকে বিফ, চিনি বা চালের বাজার ভারতের জন্য উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত নয় ইউরোপ। একই ভাবে ভারতও দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইউরোপকে। এই আবহে কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্য এই চুক্তির আওতাধীন থাকবে না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ভারতের মোট পণ্যদ্রব্য বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে প্রায় ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি এবং প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে ভারত।





