এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীনই শুরু হতে চলেছে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। হাতে সময় মাত্র তিনদিন। অথচ এখনও পর্যন্ত কতজন শিক্ষক নির্বাচনী কাজে বিএলও হিসেবে যুক্ত রয়েছেন, তার কোনও স্পষ্ট হিসাব মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে নেই। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য জানান পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ হয়ে যেতে পারত ভয়ঙ্কর বিপদ! দৃশ্য দেখেই ছুটলেন স্থানীয়রা
এসআইআর চলাকালীন মাধ্যমিক পরীক্ষা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে চাপানউতোর। পর্ষদ সভাপতি জানান, সাধারণত স্কুল ইনস্পেক্টর ও ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টররাই পরীক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান। পরীক্ষার সময় প্রায় ৫০ হাজার পরিদর্শক বা ইনভিজিলেটরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মুহূর্তে কত জন স্কুল জেলা পরিদর্শক বা শিক্ষক নির্বাচনী কাজে যুক্ত রয়েছেন, সেই বিষয়ে পর্ষদের কাছে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
তবে যাঁরা বর্তমানে বিএলও হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার দিন বিকেল ৪টে পর্যন্ত যেন এসআইআর-এর কাজ না করা হয়, সেই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আমরা এই বিষয়ে জেলাশাসক ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষকদের এসআইআর-এর কাজ থেকে বিরত রাখা হবে।”
পর্ষদ সভাপতি আরও বলেন, “মাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষা পরিচালনা করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষকের প্রয়োজন। এই কারণে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পরীক্ষার কাজ ও বিএলও-র কাজের মধ্যে সমন্বয় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তার কোনও উত্তর মেলেনি।” যদিও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দাবি, বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং তারা আশাবাদী যে পরীক্ষা শুরুর আগেই বিএলও-র ডিউটিতে থাকা শিক্ষকরা স্কুলে ফিরে আসবেন। পরীক্ষা পরিচালনায় কোনও সমস্যা হবে না।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে পর্ষদের তরফে মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। জানানো হয়েছে, এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে এবং চলবে দুপুর ২টো পর্যন্ত। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। গোটা রাজ্য জুড়ে মোট ২৬৮২টি পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪৫টি মূল পরীক্ষাকেন্দ্র এবং ১৭৩৭টি উপ-কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই ৪৮৫ জন তত্ত্বাবধায়কের কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছে।
২০২৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে মোট ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৪০ জন পড়ুয়া। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৪লক্ষ ২৬হাজার ৭৩৩ জন, ছাত্রী ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার ৬০৬ জন এবং একজন রূপান্তরকামী পরীক্ষার্থী রয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।
এছাড়াও নাম নথিভুক্তকরণ সংক্রান্ত একাধিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন পর্ষদ সভাপতি। তিনি জানান, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে প্রায় ন’হাজারের বেশি স্কুল রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি স্কুল ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের নাম এনরোলমেন্ট করেনি। সেই কারণে ২৭ও ২৮ জানুয়ারি ফের পোর্টাল খোলা হয়। ওই দু’দিনে ৯৪৫টি স্কুল মোট ১৯৬৬ জন পরীক্ষার্থীর নাম নথিভুক্ত করে। অন্যদিকে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ১৩৪ জন পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা নিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তিনি আরও জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।









