চার দিনের মধ্যেই ফের বিপর্যস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)। শুক্রবার হঠাৎ করে কাজ করা বন্ধ করে দেয় জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্ম। ফলে ভারত-সহ আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা ও একাধিক দেশের লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। সন্ধ্যার পর থেকেই এক্স খুলতে না পেরে ক্ষোভ উগরে দেন ইউজাররা। টাইমলাইন লোড হচ্ছে না, পোস্ট করা যাচ্ছে না, এমনকি ডিরেক্ট মেসেজিং পরিষেবাও অনেকের ক্ষেত্রে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
রাত আটটা নাগাদ সমস্যার প্রথম রিপোর্ট সামনে আসে জনপ্রিয় আউটেজ ট্র্যাকিং সাইট ডাউনডিটেক্টরে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে আটটা থেকে পৌনে ন’টার মধ্যে সেই সংখ্যা পৌঁছে যায় কয়েক হাজারে। শুধু ভারত নয়, একাধিক দেশে একই সময়ে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তবে কি এটি কোনও বড় সার্ভার সমস্যার ফল?
এই ঘটনার সময়টাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, মাত্র দু’দিন আগেই এক্স-এর কর্ণধার তথা বিশ্বের অন্যতম বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ঘোষণা করেছিলেন, প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নিউজ ফিড ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার অ্যালগরিদমিক কোড ওপেন সোর্স করা হবে। মাস্ক জানিয়েছিলেন, কীভাবে ইউজারদের কাছে পোস্ট সাজেস্ট করা হয়, সেই প্রক্রিয়া বুঝিয়ে দিতে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হবে।
মাস্কের সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্বজুড়ে পরিষেবা বিভ্রাটে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইউজাররা লগ ইন, ফিড রিফ্রেশ, পোস্টিং এবং মেসেজ পাঠাতে গিয়ে একের পর এক সমস্যার মুখে পড়েন। অনেকের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘ক্লাউডফ্লেয়ারের নেটওয়ার্কে অভ্যন্তরীণ সার্ভার ত্রুটি’ বার্তা। সেখানে পরে আবার চেষ্টা করতে বলা হয়।
আরও পড়ুনঃ শীতটা এখনও পুরোপুরি বিদায় নিতে চাইছে না! সপ্তাহের শেষদিন বাংলার আবহাওয়া
ক্লাউডফ্লেয়ার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে, তারা সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখছে। কীভাবে এবং কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি না কি সার্ভারের গভীর কোনও গোলযোগ—তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব দ্রুতই বিস্তারিত আপডেট দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও মে মাসের শুরুতে বড়সড় বিভ্রাটের মুখে পড়েছিল এক্স। তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে পারেননি হাজার হাজার ইউজার। সেই সময় ইলন মাস্ক দাবি করেছিলেন, এর পিছনে রয়েছে শক্তিশালী সাইবার আক্রমণ। মাস্কের কথায়, এই হামলার নেপথ্যে ‘প্রচুর সম্পদ’ জড়িত ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় কোনও বৃহৎ গোষ্ঠী বা এমনকি কোনও রাষ্ট্রীয় শক্তির ভূমিকার দিকেও।
ফের একই ধরনের বিপর্যয়ে প্রশ্ন উঠছে—এটাই কি প্রযুক্তিগত সমস্যা, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর কোনও কারণ?





