গতকাল নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর সংলগ্ন একটি গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের এক প্রৌঢ়া বার্ধক্য জনিত দীর্ঘ রোগ ভোগের পর প্রয়াত হন। তার মৃত্যুর পর তার ইচ্ছা অনুযায়ী মরণোত্তর চক্ষুদানের প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত করেন, ওনার বিজ্ঞানকর্মী ছেলে সহ পরিবারের অন্যান্যরা।
আরও পড়ুনঃ ধর্মতলায় নতুন ঘাঁটির খোঁজে বিজেপি, বাড়ি কিনতেই ঝোঁক!
প্রয়োজনীয় সমস্ত নিয়ম মেনেই পরিবারের সদস্যদের লিখিত অনুমতির ভিত্তিতে এই কর্নিয়া দানের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। সেই সময় বাড়িতে এলাকার বহু মানুষ উপস্থিত থাকলেও এই মহৎ কাজ নির্বিঘ্নেই সুসম্পন্ন হয়। এরপর ধর্মীয় রীতি মেনে ঐ দেহ সমাধিস্থ করার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এদিন সন্ধ্যার কিছু আগে বেশ কিছু স্থানীয় মানুষ নানা অবান্তর প্রশ্ন কে সামনে এনে, চরম অশান্তির সৃষ্টি করে।
এমতাবস্থায় একপ্রকার নিরুপায় হয়েই পরিবারের তরফে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তারপর পুলিশ এলে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ সম্পূর্ণ পরিস্থিতি পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়। সেই সময় পুলিশের সামনেই বিক্ষোভরত উশৃংখল কয়েকজন পরিবারের উপর চড়াও হয়, চলে ঘরবাড়ি ভাঙচুরও। এরপর সমস্তকিছু বোঝা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে পুলিশ, পরিবারকে রক্ষা করার দোহাই দিয়ে মৃতার ৫ সন্তান (৪ জন মহিলা) সহ ৮/১০ জনকে সঙ্গে করে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের দোহাই দিয়ে বার করে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতার দেহও।
আরও পড়ুনঃ কাউন্সিলারের লাথিতে বৃদ্ধের মৃত্যু; রণক্ষেত্র ব্যারাকপুরের চিড়িয়ামোড়
এরপর থানায় প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে পরিবারের অন্যান্য দের সাথে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানকর্মীরা পৌছলে, পুলিশ নানা অছিলায় ওনাদের রিলিজ প্রক্রিয়ায় দেরি করতে থাকে। পরিবারের তরফে থানায় আটকদের সকলকে ছেড়ে দেওয়া, মৃতার দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সহ, মারধোর ও ঘর ভাঙচুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে উদ্যোগী হলেও, পুলিশ ক্রমশ দেরী করতে থাকে। এরপর এক সময় বিশৃংখলাকারী গ্রামের লোকজনের একাংশ থানার বাইরে এসে জড়ো হয়। তাদের তরফেও নাকি মৃতার চক্ষু, কিডনি সহ নানা অঙ্গ চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে গভীর রাতে থানার বড়বাবু মৃতার পরিবারের পক্ষের আইনজীবী সহ অন্যান্যদের জানান, মৃতার অঙ্গ চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা সকলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরেরদিন কৃষ্ণনগর আদালত থেকেই রিলিজ করাতে হবে এবং মৃতার দেহের ময়নাতদন্ত করার পরেই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পুলিশের এহেনো ভূমিকায়, মরণোত্তর চক্ষুদানের মত একটি মহৎ কর্মসূচিতে উদ্যোগী এক পরিবারের চূড়ান্ত হেনস্তার সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি, মরণোত্তর চক্ষুদান – দেহদান – অঙ্গদানের মতো মহৎ কর্মসূচি আগামী দিনে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে চরম বাঁধা প্রাপ্ত হবে বলেই মত, গণদর্পণ-এর সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সাহা রায়, বিজ্ঞানকর্মী বিমল সরকার, দীপক রায়, কিরীটি সাহা সহ সকল বিজ্ঞানকর্মী ও বিজ্ঞান সংগঠনের…









