মহাসপ্তমীর রাতে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রায় কুড়ি জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে এখন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। শাসকদল ও প্রশাসনের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারকে একের পর এক আক্রমণ শানাচ্ছেন বিরোধী দলগুলির নেতৃত্ব—বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিরোধীদের এই ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে এবার কড়া ভাষায় জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, মানুষের এই অনভিপ্রেত মৃত্যু নিয়ে যেন কোনোভাবেই নোংরা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা না করা হয়।
আরও পড়ুনঃ এখানেও ভাইপো সংস্কৃতি! চোরবাগানে মৃত্যুমিছিলের দায় কার? উৎসবের ভিড়ে প্রাণ হারানোর জবাব চায় বাংলা
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
রবিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক ও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়: “আমি এটা নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। আমি এটা নিয়ে প্রথম রাত ৮টা বেজে ২০ মিনিট নাগাদ পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে খবর পাই। এই শোকের আবহে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।”
এরপরই বিরোধীদের আক্রমণ শানিয়ে তিনি বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের বিভিন্ন বড় দুর্ঘটনা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যাঁদের আমলে মাঝেরহাট সেতু ভাঙার ঘটনা ঘটেছে, তারাতলা কাণ্ড হয়েছে কিংবা পানিহাটির মেলায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে—তাঁদের মুখে এমন কথা শোভা পায় না। পাশাপাশি, পুজোর ঠিক আগে ভরা বর্ষায় ১৩ জন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর প্রসঙ্গও মনে করান তিনি।
তৎকালীন সরকারের উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, *“উত্তরবঙ্গে যখন হড়পা বান এসেছিল, প্রায় একশো জনের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডান্ডিয়া নাচ আর কার্নিভাল করেছিলেন। এই সমস্ত রাজনৈতিক দ্বিচারিতা এবার বন্ধ করতে হবে।”*
আরও পড়ুনঃ মেডিক্যাল কলেজে শুধুই আর্তনাদ, পুলিশ ছিল না; ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে গোটা কলকাতা
স্বজনহারাদের চোখের জল ও ভরসা
শনিবার রাতেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আবেগমঘন মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, শোকস্তব্ধ পরিবারগুলি তাঁর ওপর ভরসা রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, *“আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল এই পরিবারগুলো যখন আমার হাত ধরেছে। ওরাও কেঁদে কেঁদে বলেছে যে এই সরকারের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা আছে।”*
তৃণমূলের আক্রমণ ও রাজনৈতিক উত্তাপ
চোরবাগানের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শাসকদলের মদতে চলা পুজো কমিটিগুলির অতিরিক্ত অহংকার ও ‘ভিআইপি কালচার’-এর ফলেই আজ এই নিরপরাধ প্রাণগুলি ঝরে গেল। তবে বিরোধী শিবিরের সেই আক্রমণকে নস্যাৎ করে দিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আপাতত শোক ও উদ্ধারকাজের পাশাপাশি বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত এসআইটি (SIT) তদন্তের মাধ্যমেই পুরো সত্য সামনে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।


