মঙ্গলবার সকালে, শুটিং-এ যাওয়ার পথে এ কোন অভিজ্ঞতার শিকার হলেন অরিত্র দত্ত বণিক! আচমকাই আটকে দেওয়া হয় তাঁর গাড়ি। সেখানকার কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ অরিত্রকে বলেন, তাঁর গাড়িটি নির্বাচনী কাজের জন্যে নেওয়া হচ্ছে। শোনামাত্রই প্রতিবাদ জানান রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা অভিনেতা অরিত্র। তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে, স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ রিক্যুশিজন স্লিপ ধরিয়ে সবটা বোঝানোর চেষ্টা করেন অরিত্রকে। তবে সময় যতই এগোয়, ততই পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। আটকে দেওয়া হয় তাঁর গাড়ি। ফলে বাধ্য হয়ে অরিত্র সেই মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো করেন, এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়। যেখানে তাঁকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘আমার গাড়ি যদি আমি দিতে না চাই, কী করার আছে, আমার কাজ আছে…।’
আরও পড়ুনঃ খাস কলকাতায় রক্তবন্যা! বিউটি পার্লারে হাড়হিম হত্যাকাণ্ড!
কী ঘটে অরিত্রর সঙ্গে?
এরপরই দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে অরিত্রর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ‘আমার গাড়ির সমস্ত কাগজপত্র ঠিক আছে, এমন সময় আচমকা রথতলায় আমার গাড়ি থামানো হয়, এবং জানানো হয়, আপনার গাড়িটি আমরা নির্বাচনের কাজের জন্যে নিতে চাই। পাল্টা আমি জানাই, আমার কাজ আছে, আমি দিতে পারব না। উনি বলেন, এটা দিতে হবে, এটাই নিয়ম। তারপরই শুরু বচসা।’
কোন নিয়মের উল্লেখ করেন অরিত্র?
অরিত্র তখন বলেন, ‘দেখুন রিক্যুশিজন স্লিপের ভিত্তিতে তো গাড়ি দেওয়া যায় না। ২০০৬ সালে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, প্রাইভেট গাড়ি যেহেতু ভাড়ায় খাটানো হয় না, তাই এভাবে নিয়ে নেওয়া বেআইনি। দ্বিতীয়ত, প্রাইভেট গাড়ি যদি দরকার পড়ে, তাহলে, সেখানকার সরকারি গাড়িকে আগে ব্যবহার করতে হবে। তারপর কমার্শিয়াল গাড়িকে ব্যবহার করতে হবে। এরপরও যদি সরকার প্রয়োজন মনে করে, তাহলে সেই জেলার নির্বাচনী আধিকারিক, যাঁর যাঁর গাড়ি প্রয়োজন, সেই সকল ব্যক্তিকে চিঠি পাঠাবেন। এই অধিকার নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। তার মানে জলদস্যুর মতো রিক্যুশিজন স্লিপ দেখিয়ে ‘এই গাড়ি আমার’ বলা যাবে না।’
অরিত্র বলেন, এটাই আমি লাগাতার বলতে থাকি। উনি শুনতে না চাইলে, আমাকে ১ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। অশান্তি চলতে থাকে। শেষে আমি বেরিয়ে আসতে বাধ্য হই।
আরও পড়ুনঃ ‘থ্রিসাম অপরাধ নয়’; যৌন-অভিরুচি নিয়ে সরব তসলিমা
কী পদক্ষেপ করতে চলেছেন অরিত্র?
অরিত্রর কথায়, যেহেতু সাধারণ মানুষ জানেন না, আইন সম্পর্ক যেহেতু অনেকেই অবগত নন, ফলে পুলিশ ভয় দেখায়, মানুষ সেগুলো বিশ্বাস করে নেয়। আমার মনে হয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। সরকারের এখন অনেক গাড়ি রয়েছে। আগে যখন নিয়ম ছিল, তখন সত্যি গাড়ির অভাব ছিল। এখন ততটা নেই। ফলে আমি আজ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনরের কাছে এবং আমাদের জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে চিঠি বা মেলের মাধ্যমে ওই ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবো।
এখন প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন চাইলে ভোটের সময়ে কি আপনার গাড়ি চাইতে পারে?
ভোটের সময় প্রশাসনের কাজে লাগাতে নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী যে কোনও যানবাহন রিকুইজিশন করতে পারে। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে আপনার ব্যক্তিগত গাড়িও নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যবহার করার জন্য চাওয়া হতে পারে। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে সরকারি ও বাণিজ্যিক গাড়ি ব্যবহার করা হয়, আর সেগুলো যথেষ্ট না হলে তবেই ব্যক্তিগত গাড়ি নেওয়ার পথে হাঁটে প্রশাসন।
এ ক্ষেত্রে গাড়ির মালিককে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নোটিস দেওয়া হয় এবং ব্যবহার বাবদ নির্ধারিত ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। পাশাপাশি মালিক চাইলে বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড়ের আবেদন করতে পারেন, যা প্রশাসন বিবেচনা করে দেখতে পারে। ফলে আইনগতভাবে কমিশনের সেই ক্ষমতা থাকলেও, সব ব্যক্তিগত গাড়ি যে নেওয়া হবে—এমন বাধ্যতামূলক নয়।



