ভোটের আগে সিপিআই(এম)-এর রাজ্য রাজনীতিতে বড় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পার্টির রাজ্য কমিটি থেকে আচমকা ইস্তফা দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। সূত্রের খবর, যদিও তাঁর এমন সিদ্ধান্তের কথাশীর্ষ নেতৃত্বকে একটি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্বসহ প্রাথমিক সহসভ্য পদ থেকেও অব্যাহতি নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ জোটের জট আরও বাড়ল! ISF নাপসন্দ ফরওয়ার্ড ব্লকের
ভোট আবহে এই পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে সরগরম সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। প্রতীক উর রহমান রাজ্যের বামপন্থী রাজনীতিতে সুপরিচিত নাম। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং পার্টির নীতিমূলক অবস্থান নিয়ে সরাসরি কথাবার্তা করার সাহস তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তরুণ নেতা একুশের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও নির্বাচনে তিনি জয় পাননি, তবু তাঁর লড়াকু মনোভাব এবং নীতি-নিষ্ঠার কারণে তিনি তরুণ সমাজের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে পার্টির তরফ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
তৃণমূল থেকে বেরিয়ে সম্প্রতি নিজের দল গড়েন হুমায়ুন কবীর। তারপরই হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেই বৈঠক নিয়ে জোর বিতর্ক হয়। সিপিএমের একাংশের বক্তব্য ছিল, বৈঠক সম্পর্কে তাঁরা নাকি কিছুই জানতেন না। সংবাদ মাধ্যম থেকে পুরোটা জেনেছেন।
বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়েও বিতর্ক বাধে। সিপিএমের একাংশ এই বৈঠককে ভালভাবে নেয়নি। যদিও শতরূপ ঘোষের মতো কিছু নেতা সেলিমের পাশে দাঁড়ান এবং বিষয়টিকে সদর্থকভাবে নেওয়ার আবেদন জানান।
লাল দুর্গের ভরসা তরুণ প্রজন্ম অবশ্য সেটাও খুব একটা সদর্থকভাবে নেয়নি। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন। তালিকায় ছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া খুব একটা ব্যবহার না করা প্রতিকুরও। অনেকেই বলাবলি করছেন, নাম না করে শতরূপ ঘোষকে খোঁচা দিয়ে তিনি ওই পোস্টে দলের নীতি নৈতিকতা নিয়ে লেখেন।
পোস্টে বলা হয়, ‘নীতি নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।’

এদিন যে চিঠি সামনে এসেছে (সত্যতা যাচাই করেনি বঙ্গবার্তা), তাতেও নৈতিকতার প্রসঙ্গই স্পষ্ট। জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলেছেন এই তরুণ তুর্কি। জানিয়েছেন, দলীয় নেতৃত্বের ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না তাই মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। এটা আর তিনি চান না।
আরও পড়ুনঃ ২০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে মধ্য ও উত্তর কলকাতা!
এই অবস্থা থেকে তাই অব্যহতি চেয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, পার্টির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে সরে দাঁড়ানোরও আবেদন জানিয়েছেন।
এনিয়ে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। অনেকেই জানতে চাইছেন অন্দরে ঠিক কী এমন হল যাতে প্রতিকুরের মতো লড়াকু নেতাকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে। এনিয়ে অবশ্য আলিমুদ্দিনের তরফে কিছু এখনই জানা যায়নি।









