বেলডাঙা হিংসাকাণ্ডের তদন্ত ঘিরে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আপাতত বহাল থাকল হাইকোর্টের সেই নির্দেশ, যেখানে রাজ্য পুলিশকে বেলডাঙা মামলার নথি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA-এর হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলে ‘মহা ভূমিকম্প’! দল ছাড়লেন ‘তাজা নেতা’ আরাবুল
সূত্রের খবর, বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনার তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা NIA-র প্রবেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। রাজ্যের দাবি ছিল, তাদের বক্তব্য পুরোপুরি শোনা হয়নি এবং পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়াই হাইকোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে। সেই কারণেই হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার।
তবে বিষয়টি শুনে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজন তারা দেখছে না। ফলে রাজ্যের আবেদন খারিজ হয়ে যায় এবং কলকাতা হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল থাকে। এর আগে বেলডাঙা অশান্তির ঘটনায় NIA তদন্ত নিয়ে রাজ্য সরকারের আপত্তি খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, বিশেষ আদালতের দেওয়া নির্দেশই বহাল থাকবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, বেলডাঙা ঘটনার তদন্ত সংক্রান্ত কেস ডায়েরি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র NIA-কে হস্তান্তর করতে হবে রাজ্য পুলিশকে।
শুধু তাই নয়, তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেয় হাইকোর্ট। ফলে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সংস্থার সামনে আর কোনও আইনি বাধা থাকল না। উল্লেখ্য, বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA-র মধ্যে সংঘাত চরমে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কেস ডায়েরি এবং নথিপত্র NIA-র হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
আরও পড়ুনঃ ভোট বঙ্গে রাতারাতি বদলে গেল প্রশাসনের খোলনলচে
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশেষ আদালত নির্দেশ দেয়, বেলডাঙা মামলার সমস্ত প্রাসঙ্গিক কেস ডায়েরি NIA-র হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই প্রথমে হাইকোর্টে যায় রাজ্য সরকার এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চায়। তবে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত জানিয়ে দেয়, তদন্তে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার।







