ভারত। পাকিস্তান। দুই চিরশত্রু দল। কেউ কাউকে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। তবে কলম্বোয় ঈশান ঝড়ে প্রথমে কিছুটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের বোলিং লাইন আপ। এরপর ব্যাটিং করতে নেমেও একই হাল পাক বাহিনীর। ভারতের বোলিং লাইন আপের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল পাকিস্তানের ব্যাটাররা। ৬১ রানে অনবদ্য জয় ভারতের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে চলে গেল গ্রুপের ফাস্ট বয় টিম ইন্ডিয়া।
আরও পড়ুনঃ ‘জাস্টিস ফর সিস্টার’, মহানন্দা ক্যানেলে ঝাঁপ শিলিগুড়ির দাদার
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-র ম্যাচে ভারত শুধু যে পাকিস্তানকে ৬১ রানে উড়িয়ে দিল, তা নয়। সলমন আলি আঘাদের কাটা ঘায়ে মারাত্মকভাবে নুনের ছিটেও দিয়ে গেলেন সূর্যকুমার যাদবরা। এরকম হাই-প্রোফাইল ম্যাচে দলে প্রথমসারির বোলাররা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের কোটাই শেষ করলেন না। এত আগে থেকে ম্যাচের ফয়সালা হয়ে গিয়েছিল যে রিঙ্কু সিং, তিলক বর্মাদের মতো পার্টটাইম বোলারদের দিয়ে বল করালেন ভারতীয় অধিনায়ক। একটা সময় মনে হচ্ছিল যে সেই যেন ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপের ভারত-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ হচ্ছে। যে ম্যাচে বিরাট কোহলি থেকে রোহিত শর্মারা হাত ঘুরিয়েছিলেন।
টসে জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান পাক অধিনায়ক সলমান আলি আঘা। ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খুলতেই ব্যর্থ ওপেনার অভিষেক শর্মা। সলমন আলি আঘার ঘূর্ণিতে ধরা পড়েন তিনি। আরেক ওপেনার বাইশ গজে ঝড় তোলেন। ৪০ বলে ৭৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে গেলেন। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ১০ টি চার ও ৩ টি ছয় দিয়ে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিলক বর্মার অবদান ২৪ বলে ২৫ রান। ১৪.২ ওভারে আউট হন তিলক।
আরও পড়ুনঃ গায়েব ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা; আরামবাগে শোরগোল
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে সাজঘরে পাঠান উসমান তারিক। ২৯ বল খেলে ৩২ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন সূর্য। ছক্কা মারতে গিয়ে সাইম আয়ুবের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। অভিষেকের মতোই একই হাল হার্দিকের। শূন্য রানে আউট হন তিনি। শিবম দুবে ১৭ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন। কিন্তু রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। রিঙ্কু সিং ১১(৪) রান তুলে অপরাজিত ছিলেন। পাকিস্তানের হয়ে অধিনায়ক সলমন আলি আঘা ১ টি, সাইম আয়ুব ৩ টি, উসমান তারিক ১ টি, শাহিন আফ্রিদি ১ টি করে উইকেট নেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান তোলে ভারত।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দিশেহারা অবস্থা পাকিস্তানের। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে প্যাভিলিয়নে ফেরান হার্দিক পান্ডিয়া। এরপরই জোড়া ধাক্কা দেন জাসপ্রীত বুমরা। ম্যাচের কিছুটা হান ধরেন উসমান খান। ঠিক এমন সময় বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করেন অক্ষর প্যাটেল। লেন্থ বল মারতে এগিয়ে আসেন উসমান। কিন্তু তা মিস করেন। সোজা বল যায় ঈশান কিষাণের হাতে। ব্যস কেল্লাফতে। ৩৪ বলে ৪৪ রান তুলে আউট হন উসমান। শাদাব খান তোলেন ১৪(১৫) রান, শাহিন আফ্রিদি ২৩(১৯) রান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন। ভারতের হয়ে হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, জাসপ্রীত বুমরা ও বরুণ চক্রবর্তী ২ টি করে এবং কুলদীপ যাদব ও তিলক বর্মা ১ টি করে উইকেট নেন। ১১৪ রানে ইনিংস শেষ পাকিস্তানের ইনিংস।









