রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ স্বপ্না বর্মনকে ঘিরে তৈরি হল আইনি জটিলতা। রেলের চাকরি থেকে ইস্তফা না দিয়েই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূলে যোগ দেন বলে অভিযোগ। এর জেরেই তাঁর প্রার্থী পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ গাজিয়াবাদ গুপ্তচর কাণ্ডে পাকিস্তানের বড় ষড়যন্ত্র ফাঁস
স্বপ্না বর্মন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হেপ্টাথলিট। ২০১৮ এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার পাশাপাশি অর্জুন পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন তিনি। তবে রাজনীতির ময়দানে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন। তৃণমূলের বক্তব্য, ইচ্ছাকৃত ভাবে স্বপ্নার ব্যাপারে জটিলতা বাড়াচ্ছে রেল। উত্তরবঙ্গের মেয়ের সঙ্গে এরকম ব্যবহার করারও জবাব পাবে বিজেপি।
রেলের তরফে অভিযোগ, চাকরি বজায় রেখেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গ হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। এরপর ১৬ মার্চ স্বপ্না বর্মন ইস্তফা দিলেও, চলতি ডিপার্টমেন্টাল এনকোয়ারির কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানায় রেল কর্তৃপক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে স্বপ্না বর্মন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্ত চলাকালীন ইস্তফা গ্রহণ করা যায় না। তবে স্বপ্না যদি নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং অবসরকালীন কোনও সুবিধা দাবি না করেন, তাহলে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে ভাবা যেতে পারে।
ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার আদালতে জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিষয়টি বিকেল ৫টার মধ্যে জানানো হবে। তবে সেই নির্দেশ মানা হয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুনঃ পদত্যাগ মু্খ্যমন্ত্রী মমতার; সরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো
এদিন আদালতে উপস্থিত থাকলেও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি স্বপ্না বর্মন। তবে তাঁর আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, আদালত নির্দেশ দিয়েছে ১৬ তারিখের ইস্তফাপত্র ছাড়াও নতুন করে একটা ইস্তফাপত্র দিতে হবে। আর কিছু শর্ত মানতে হবে। সেই শর্ত হল, ক্যাজুয়াল লিভে থাকাকালীন তিনি যে বেতন নিয়েছেন, তা ফেরত দিতে হবে। আর উনি কোনও অবসরকালীন সুবিধা পাবেন না। এটা মেনে নিলেই রেল তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করে নেবে।
মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী শুক্রবার।



