মণিপুরের লিটান এলাকায় আজ সকাল ১১টার দিকে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে । এই ঘটনা রাজ্যের চলতি সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। স্থানীয় মণিপুর যোদ্ধা গোষ্ঠীর সদস্যরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অসম রাইফেলস ইউনিটের তেরো জন জওয়ানকে আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনা লিটানের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গে রাম ছেড়ে কৃষ্ণ; ভোট বৈতরণী পেরতে ১৮ তারিখ দুপুর ২টোয় মায়াপুরে শাহ
কারণ এলাকাটি গত কয়েকদিন ধরে জাতিগত সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং গুলির শব্দে অশান্ত হয়ে উঠেছে।স্থানীয় সূত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুসারে, এই অসম রাইফেলসের জওয়ানরা স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘরে আগুন লাগানো এবং বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত। অনেকে দাবি করছেন যে, বিজেপি সরকার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমর্থনে এই ধরনের কাজ চালানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে।
লিটান সারেইখং এলাকায় গত সপ্তাহ থেকে টাঙ্খুল নাগা এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। বাড়িঘর পোড়ানো, গুলিবর্ষণ এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে, যার ফলে শতাধিক পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, অসম রাইফেলসসহ কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনো না কোনো পক্ষকে সুরক্ষা দিচ্ছে বা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই আটকের ঘটনা মণিপুরের দীর্ঘদিনের অশান্তির একটা প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া মেইতেই-কুকি সংঘর্ষ এখনও থামেনি। এখন নাগা-কুকি সংঘাতও যুক্ত হয়েছে। লিটানের মতো এলাকায় যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি বাস করে, সেখানে ছোটখাটো ঘটনা থেকে বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আরও পড়ুনঃ ‘অঙ্ক কী কঠিন’, রাজনীতির অঙ্ক আরও কঠিন! প্রতীক-উর এর পাশে বাম মনস্ক পরিচালক সৌরভ
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও অগ্নিসংযোগ এবং হিংসা রোধ করা যাচ্ছে না। কেউ কেউ তো দাবি করছেন যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি জড়িত। যদিও এই অভিযোগগুলো সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়নি, তবু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি এবং ভিডিওতে স্থানীয়দের ক্ষোভ স্পষ্ট।
আটক হওয়া জওয়ানদের নিরাপত্তা এবং তাদের মুক্তির বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। ভারতীয় সেনাবাহিনী বা অসম রাইফেলসের পক্ষ থেকে এই ঘটনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে স্থানীয় যোদ্ধা গোষ্ঠীগুলো আরও খবর শেয়ার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই ঘটনা রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মণিপুর সরকার এবং কেন্দ্র উভয়ই বারবার শান্তির আহ্বান জানালেও, মাঠের বাস্তবতা অন্য কথা বলছে। লিটানে ইন্টারনেট সাসপেন্ড করা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে ভয় এবং অসহায়ত্ব বাড়ছে।









