সরপুরিয়ার ঐতিহাসিকতা নিয়ে মতভেদ আছে। চৈতন্যদেব তিন প্রকারের সরের মিষ্টান্ন খেতেন। তার মধ্যে অন্যতম সরপুপী বা সরপুরিয়া। কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত চৈতন্যচরিতামৃততে এর উল্লেখ আছে। অদ্বৈত আচার্য নিজেই চৈতন্যদেবকে সরপুরিয়া পাঠাতেন।
আরও পড়ুনঃ বিধানসভায় রহস্যময় ২৯৯ নম্বর সিট! মুখ্যমন্ত্রীর পাশের আসন বরাবরই খালি থাকে
সরপুরিয়া
অন্যদিকে প্রচলিত মতে সরপুরিয়ার সৃষ্টিকর্তা কৃষ্ণনগরের অধরচন্দ্র দাস। আবার মতান্তরে সরপুরিয়ার সৃষ্টিকর্তা তারই পিতা সুর্যকুমার দাস। কথিত আছে যে তিনি রাতে ছানা, ক্ষীর ও সর দিয়ে তৈরী করতেন সরপুরিয়া। পরের দিন সকালে মাথায় করে নিয়ে ফেরি করতেন। যুবক অধরচন্দ্র তার পিতার কাছে মিষ্টি তৈরী কৌশল শিখে নেন।
সরভাজা হল কৃষ্ণনগরের অপর একটি বিখ্যাত মিষ্টি। দুধের সর ও ঘি দিয়ে তৈরি এই মিষ্টির সুনাম বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গাপুজো, কালীপুজো ছাড়াও কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোতে সরভাজার চাহিদা অন্য সময়ের থেকে বেশি থাকে।
আরও পড়ুনঃ এবার কী হবে? সত্যিই কী চাপ বাড়ল মমতার ওপর!
কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত মিষ্টি সরভাজা
মিষ্টি তৈরির এই গোপন পদ্ধতি যেন ফাঁস না হয়ে যায় সেই কারণে অধরচন্দ্র দাস, বাড়ি ঘরের দরজা-জানলা বন্ধ করে খুব গোপনে সরভাজা তৈরির পাক তৈরি করতেন। কিন্তু সে খবর ঠিকই ছড়িয়ে পড়ত শহরে। কথিত রয়েছে, মাছির ঝাঁক তখন ঘিরে ধরত অধরচন্দ্র দাসের বাড়ি।
এই মিষ্টি কিন্তু খুব বেশি প্রাচীন নয়। মাত্র একশো বছর আগের কথা। তখনই এই মিষ্টিকে ঘিরে কৃষ্ণনগরের আরও একটি পরিচয় তৈরি হচ্ছিল আস্তে আস্তে। তারপরে সেই মিষ্টি সত্যিই কৃষ্ণনগরের বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। মাটির পুতুল, জগদ্ধাত্রী পুজো, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরিবারের কথার সঙ্গে সঙ্গে সরপুরিয়া, সরভাজার কথাও ছড়িয়ে পড়ছিল। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে সে কথা বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। নানা দোকানেই তৈরি হতে থাকে সরপুরিয়া, সরভাজা। শহরের নেদেরপাড়ায় অধরবাবুর পরিবারের লোকেরাই দু’টি মিষ্টির দোকান করেন। শহরের আরও কিছু দোকানেও এই মিষ্টি তৈরি করা শুরু হয়ে যায়।
১৯০২ সালে নেদের পাড়ায় অর্থাৎ বর্তমান অনন্তহরি মিত্র রোডে প্রতিষ্ঠা করেন মিষ্টির দোকান। দোকানের নাম অধরচন্দ্র দাস। কালক্রমে এটি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।









