সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে সরাসরি দক্ষিণ কলকাতার রুবি বা ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় চলাফেরার ক্ষেত্রে এতদিন যানজটে অনেক সময় লেগে যেত । এবার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে । দীর্ঘদিনের যানজটের সমস্যা মেটাতে এবং চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের উপর থেকে যানবাহনের চাপ কমাতে এক বড়সড় পরিকাঠামো উন্নয়নের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার ।
আরও পড়ুনঃ নতুন করে ফের অশান্তি মণিপুরে, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা
সেক্টর ফাইভ সংলগ্ন মহিষবাথান থেকে বাসন্তী হাইওয়ে হয়ে বানতলা পর্যন্ত বিস্তৃত যে সংকীর্ণ এবং কাঁচা রাস্তাটি এতদিন অবহেলিত অবস্থায় ছিল, তাকেই এবার আধুনিক ‘পেভার ব্লক’ এবং পিচ ঢালাইয়ের মাধ্যমে আমূল বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে । এনডিআইটিএ (NDITA) বা নবদিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ অথরিটির উদ্যোগে এই সাত কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটির সংস্কার কাজ শেষ হলে নিউটাউন এবং সেক্টর ফাইভের আইটি কর্মীদের পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দাদেরও যাতায়াতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে ।
বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতা থেকে সেক্টর ফাইভ বা নিউটাউন যাওয়ার প্রধান সংযোগকারী রাস্তা হল চিংড়িঘাটা । অফিস টাইমে এই মোড়ে যানজটের জেরে নিত্যযাত্রীদের নাভিশ্বাস ওঠে । প্রশাসনের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ ছিল যে, চিংড়িঘাটার বিকল্প পথ তৈরি না-করলে এই যানজট কমানো সম্ভব নয় । সেই লক্ষ্যেই পূর্ব কলকাতা জলাভূমি বা ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ডসের মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া এই পুরনো এবং মেঠো পথটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে ৷
এতদিন এই রাস্তাটি অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং খানাখন্দে ভরা থাকার কারণে বড় যান চলাচলের অনুপযুক্ত ছিল । এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রেখেই রাস্তাটিকে প্রশস্ত করা হবে এবং উন্নতমানের পেভার বসিয়ে সেটিকে মজবুত করা হবে । এর ফলে বাসন্তী হাইওয়ে হয়ে সোজা রুবি মোড় বা ইএম বাইপাসের দিকে যাতায়াত করা অনেক বেশি সহজ ও দ্রুততর হবে ।
আরও পড়ুনঃ অটো থামিয়ে সার্চ করতেই চোখ কপালে কলকাতা পুলিশের; ভোটের মুখে মহানগর তিলত্তমায় অস্ত্রের পাহাড় !
প্রকল্পের বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, এই সাত কিলোমিটার রাস্তার আধুনিকীকরণ সম্পন্ন হলে সেক্টর ফাইভ থেকে রুবি মোড়ে পৌঁছতে আগের তুলনায় প্রায় 20 থেকে 25 মিনিট সময় কম লাগবে । এটি মূলত একটি বিকল্প বাইপাস হিসেবে কাজ করবে, যা চিংড়িঘাটা এবং সায়েন্স সিটি সংলগ্ন রাস্তার উপর থেকে অন্তত 30 শতাংশ যানবাহনের চাপ কমিয়ে দেবে বলে মনে করছেন ট্রাফিক বিশেষজ্ঞরা । বিশেষ করে বানতলা আইটি হাবের কর্মীদের জন্য এই রাস্তাটি আশীর্বাদ হতে চলেছে ।
জলাভূমি অঞ্চলের উপর দিয়ে রাস্তাটি যাওয়ায় পরিবেশের বিষয়টিও মাথায় রাখছে এনডিআইটিএ । পেভার ব্লক ব্যবহারের অন্যতম কারণ হল, জল নিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব বজায় রাখা । ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে ।
এই সংযোগকারী রাস্তাটি চালু হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই হবে না, বরং সংলগ্ন এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটবে । দক্ষিণ কলকাতার সঙ্গে রাজারহাট-নিউটাউনের যে সরাসরি সংযোগের অভাব ছিল, এই রাস্তাটি সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে । প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষ যে যানজটের ভোগান্তি সহ্য করে যাতায়াত করেন, এই মেগা প্রজেক্ট শেষ হলে সেই যন্ত্রণার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছে প্রশাসন । আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ।









