ভারতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে নীরবে বড় পরিবর্তন ঘটছে। গত কয়েক মাসেই মোবাইল ফোন, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), টেলিভিশন এবং ওয়াশিং মেশিনের মতো পণ্যের দাম ১০% থেকে ৩০% পর্যন্ত বাড়তে চলেছে। বিশেষ করে এন্ট্রি-লেভেলের স্মার্টফোন, যা আগে প্রায় ১০,০০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা বেড়ে ১৩,০০০–১৪,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব শীঘ্রই এই দাম ১৭,০০০–১৮,০০০ টাকাও ছুঁতে পারে।
একইভাবে টেলিভিশনের ক্ষেত্রেও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। কয়েক বছর আগে যে ৩২ ইঞ্চির টিভি ৬,৫০০–৭,০০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার দাম বেড়ে প্রায় ৮,৫০০ হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে তা ১০,০০০ টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এসির ক্ষেত্রেও একই চিত্র—১.৫ টন এসির দাম আগে যেখানে ৩২,০০০–৩৪,০০০ ছিল, এখন তা বেড়ে ৩৭,০০০–৪০,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ১০–২০% বৃদ্ধি।
আরও পড়ুনঃ জলপাইগুড়িতে ট্রেন থেকে আটক ১৪ বাংলাদেশি
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। প্রথমত, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি—বিশেষ করে কপার, অ্যালুমিনিয়াম এবং ইলেকট্রনিক চিপের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় টাকার দুর্বলতা আমদানি নির্ভর পণ্যের খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক স্তরে সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যাও একটি বড় কারণ। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও বৈশ্বিক অস্থিরতা সরবরাহ চেইনে প্রভাব ফেলেছে।
আগে অনেক কোম্পানি এই অতিরিক্ত খরচ নিজেদের মধ্যে সামলে নিত, ফলে গ্রাহকদের ওপর চাপ কম পড়ত। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিস্থিতি আর নেই। নির্মাতারা সরাসরি এই বাড়তি খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন।
আরও পড়ুনঃ “নিজের মনটাকে অন্ধকার হতে দিও না ফেলু”; বলেছিলেন বামপন্থী সরোজিনী নাইডুর ভাই
এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে যে ইলেকট্রনিক পণ্যগুলি একসময় ক্রমশ সস্তা হচ্ছিল, এখন সেগুলিই আবার ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।



