শিবনাথ প্রধান, সাঁতরাগাছি, হাওড়াঃ
কাঁধের উপরে যেন পৃথিবীর বোঝা। অথচ বয়স মাত্র দশ, কিংবা আরও কম। কত কী যে সে শিখছে! তার পিঠের ব্যাগে কত বই! কত বিষয়ের খাতা। শুধু ছোটবেলা হারিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত বইয়ের বোঝার কারণে শারীরিক চাপের পাশাপাশি মানসিক চাপও বয়ে বেড়াতে হয় ছোটো ছোটো বাচ্চাদের ।
আরও পড়ুনঃ হায়রে, পার্থর ছায়াও মাড়াবে না তৃণমূল! কালীঘাট অবস্থান স্পষ্ট করে দিল
তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সিলেবাসে ১৩টি বই, প্রত্যেক বিষয়ের আলাদা খাতা, ব্যাগের ওজন সব মিলিয়ে প্রায় ৪/৫ কেজি। নবম বা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরও করুন । এটা বেসরকারি স্কুলের চিত্র, অথচ সরকারি স্কুলে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভার বহন করা উচিত নয়। এতে শিশুদের পিঠ ও পায়ে ব্যথাসহ বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক গাদা বই, জলের বোতাল, ছাতা দিয়ে শিশুদের কাঁধে স্কুল ব্যাগ তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই বয়সে ব্যাগের বোঝা শিশুর শারীরিক বিকাশের ক্ষেত্রে যেমন, তেমনই মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে মারাত্বক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ সরকারকে সম্প্রতি তাদের দেওয়া সুপারিশে জানিয়েছে যে, প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া শিশুদের কাঁধে স্কুল ব্যাগে মাত্র দুটি পাঠ্য বই দেওয়া যাবে। তিনটি বই দেওয়া যাবে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া শিশুদের স্কুল ব্যাগে। বাচ্চাদের স্কুল ব্যাগে এর চেয়ে বেশি বই দেওয়া হলে স্কুল এবং অভিভাবক দু’পক্ষকেই জরিমানা এবং নোটিশ পাঠানোর বিধান রাখা হয়েছে এই সুপারিশে।
সস্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘দেশ জুড়ে শিশুদের কাঁধে স্কুল ব্যাগের বোঝা কমানোর চেষ্টা চলছে। মহারাষ্ট্রসহ বেশ কিছু রাজ্যে ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে ট্যাব দেওয়া শুরু হয়েছে’। ট্যাবের মধ্যে পাঠ্যপুস্তকের সব ‘প্রিন্ট সংস্করণ’ যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। শিশুরা শুধু আঙুল ছুঁলে ভেসে উঠবে বিভিন্ন ভাষার পাঠ্যপুস্তুক।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘শুধু ট্যাব দিয়ে বা বই কমিয়ে নয়। এই ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত দেখানোর মতো কাজ করেছে ছত্তিশগড় রাজ্য। সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ দুই সেট বই দিয়েছে শিশুদের। একসেট বই স্কুলে রাখা আছে এবং অন্যসেট বই তাদের বাড়িতে। শিশুরা যখন স্কুলে আসছে, তখন তাদের ব্যাগের আর প্রয়োজন পড়ছে না’।
ছোট বাচ্চারা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়বে, একাধিক বই পড়বে- এগুলো এখন স্ট্যাটাসের ব্যাপার। স্ট্যাটাস বাড়ানোর নামে শিশুদের হয়রানি বন্ধে সব রাজ্য সরকারকে উদ্যোগী হতেই হবে।









