আকার 5 ফুটের বেশি, এবং প্রায় 3 ফুটের বেশি প্রশস্ত।
পারশুরামেশ্বর মন্দিরের ইতিহাস আজ অন্ধকারে মিলিয়ে গিয়েছে। মন্দির কবে নির্মিত এবং কে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন সব আজ অজানা।
তবুও এই মন্দির যেন সেই প্রাচীন ইতিহাসের গৌরবময় অতীতের সাক্ষী হিসেবে আজও দন্ডায়মান।
প্রাচীন এক শিলালালিতে মন্দিরের নাম উল্লেখ থাকলেও, নির্মাতাদের পরিচয় লুকিয়ে আজও রয়েছে সময়ের গভীরে।
তবে মন্দিরের উদ্দেশ্যে নিবেদিত দেবোত্তর সম্পত্তির বিবরণ পাওয়া গিয়েছে – জমি, অর্থ, এবং বেশ কিছু পরিমাণ গো-সম্পদ।
১৯৭৩ সালের এক খননকাজ চালানো হয়েছিল। তখন পাওয়া গিয়েছে ২য় বা ৩য় শতাব্দীর মৃৎপাত্রের টুকরো। সাতবাহন যুগের মৃৎপাত্র এবং কিছু বেশ বড় বড় সাইজের ইট।
অনেক ঐতিহাসিক মন্দিরটিকে সাতবাহন যুগের স্থাপত্য বলে মনে করলেও মন্দিরের শিবলিঙ্গটির নির্মাণ দেখে অনেকেই আরোও প্রাচীন বলে মনে করছেন।
মন্দিরের শিবমূর্তি যেন জীবন্ত। সোজা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। এখানে শিব এক শিকারী- তাঁর ডান হাতে ভেড়া বা হরিণ, বাম হাতে জলের পাত্র, আর বাম কাঁধে কুঠার।
কুঠারটি বেশ অদ্ভুত গঠনের।
তেমনি অদ্ভুত ভেড়া বা হরিণটি, এটি ভেড়া বা হরিণ চিহ্ন সম্বলিত জলপাত্র বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ বুথে কেন যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা! নেপথ্যে কোন সমীকরণ?
তাঁর সাজসজ্জাও কম আকর্ষণীয় নয়। ভারী কানের ঝুমকা, বিস্তৃত নেকলেস, আর কোমরে ঝুলন্ত বন্ধনী। বাহুতে পাঁচটি করে ব্রেসলেট, প্রতিটিতে আলাদা নকশা, আর উঁচু বাহুর আংটি। ধুতি পরিহিত, কোমরে বস্ত্র-মেখলা দিয়ে বাঁধা, যা লিঙ্গকে ঘিরে রেখেছে। নেই কোনো যজ্ঞোপবীত বা পৈতা। মাথায় রয়েছে পাগড়ি। চুল কোঁচকানো।
সব মিলিয়ে এই মূর্তি অদ্ভুত!
পেছনে এক বিশাল লিঙ্গ, সামনে দন্ডায়মান শিব।
শিবের দুই পা এক বেঁটে মানুষের দুই কাঁধে রয়েছে।
বেঁটে মানুষটি বসে রয়েছে উবু হয়ে। তার কানগুলো লম্বাটে, প্রানীদের মত।
এই মূর্তি আসলে অজ্ঞানতার প্রতীক। অজ্ঞানতার উপর বিজয়প্রাপ্ত হয়েছেন শিব।
এই লিঙ্গটি কত প্রাচীন?
খ্রীষ্টপূর্ব 300-400 বছরের হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে… যদিও ঠিক কত বছরের পুরনো, এখন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।
সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় কি জানেন?
এই লিঙ্গ তৈরির পাথরটি এই পৃথিবীর নয়।
তাহলে এই লিঙ্গ কি কোন উল্কা দিয়ে তৈরি হয়েছিল? নাকি অন্য কোন অজানা উপায়ে এই লিঙ্গটি বানানো হয়েছিল?
আপনার কি ধারণা?
বর্তমান অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতির কাছাকাছি এই মন্দিরটি অবস্থিত।









