spot_img
Monday, 2 March, 2026
2 March
spot_img
Homeউত্তরবঙ্গComplaint Box: বদলেছে অভিযোগ জানানোর ধরন; শিলিগুড়ি শহরে উধাও নালিশ বক্স

Complaint Box: বদলেছে অভিযোগ জানানোর ধরন; শিলিগুড়ি শহরে উধাও নালিশ বক্স

অপেক্ষার সময় কোথায়? জায়গা মতো অভিযোগ পৌঁছোবে কিনা তাও বোঝা দায়। তাই ইন্টারনেটে ওই অফিসের সাইটে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে দাও।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ

মানুষের অভিযোগ জানানোর এখন ধরন বদলেছে।  তাই সাবেকি নালিশ বাক্সর আর দেখা মেলে না। ধীরে ধীরে অফিস, স্কুল, পোস্ট অফিস, সরকারি কার্যালয় সব জায়গা থেকেই পাততাড়ি গুটিয়েছে ‘কমপ্লেইন বক্স’। কোথাও কোথাও আবার বাক্সটি দেখা গেলেও সেখানে অভিযোগপত্র জমা পড়েনি বছর বছর ধরে।

এটা শুধু কি যুগের দোষ? অনেকেই বলছেন মানুষের হাতে সময় কোথায়। একখানা কাগজে অভিযোগ লিখে জমা দাও। তারপর তা এই অফিস থেকে সেই অফিস। নানা জায়গায় হাতবদল হয়ে জবাব কবে আসবে কে জানে। এত অপেক্ষার সময় কোথায়? জায়গা মতো অভিযোগ পৌঁছোবে কিনা তাও বোঝা দায়। তাই ইন্টারনেটে ওই অফিসের সাইটে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে দাও। এতে নাকি ‘রিপ্লাই’ পাওয়া যায় তাড়াতাড়ি।

আরও পড়ুনঃ সীমান্তে আবারও চরম উত্তেজনা, সিঁদুর অভিযানে বড়সড় আঘাত পাকিস্তানে

শিলিগুড়ি পুরনিগম, পোস্ট অফিস, ইলেক্ট্রিক অফিস, বিভিন্ন স্কুল, লাইব্রেরি প্রায় সব জায়গা থেকেই উঠে গিয়েছে কমপ্লেইন বক্স। মহকুমা পরিষদ, কিছু ব্যাংকে এখন একটি বাক্স থাকলেও কত বছর ধরে যে সেখানে অভিযোগ জমা পড়েনি তা মনে করে বলতে পারছেন না আধিকারিকরাও।

শিলিগুড়ি হেড পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার বাবলুকুমার রাম বলছিলেন, ‘অনলাইন পোর্টালে এখন সমস্ত কমপ্লেইন জমা করার ব্যবস্থা রয়েছে তাই কমপ্লেইন বক্সের আর প্রয়োজন হয় না। সফটওয়্যার দিয়ে যখন থেকে কাজ শুরু হয়েছে তখন থেকেই এই বক্সের প্রয়োজনীয়তা কমে গিয়েছে।’ তিনি বলেন,‘হাতে লিখে বক্সে কমপ্লেইন জমা দিলে তার সমাধান হতে অনেকদিন সময় লেগে যেত। তবে অনলাইন পোর্টাল হওয়ায় একবারেই সবাই অভিযোগটা দেখতে পাচ্ছে। তাই সমাধানও দ্রুত হচ্ছে। হাতবদল হতে হতে টেবিলে গিয়ে আর অভিযোগপত্র পড়ে থাকছে না।’

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলছিলেন, ‘এখন প্রযুক্তি এত উন্নত। তাহলে সময় নষ্ট করে কী লাভ। অনলাইনেই অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বহু বছর আগেই পুরনিগম থেকে কমপ্লেইন বক্স উঠে গিয়েছে।’

একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা অনুলেখা রায়ের কথায়, ‘স্কুলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। যে কোনও অভিযোগ, অসুবিধা সেই গ্রুপেই অভিভাবকরা জানাচ্ছেন। আর তৎক্ষণাৎ তার সমাধানেরও চেষ্টা করা হচ্ছে। খুব বেশি অসুবিধা হলে অভিভাবকরা এসে কথা বললেই সমস্তটা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়। সত্যি বলতে কমপ্লেইন বক্সে কেউ আর কমপ্লেইন জমা দেয় না।’

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ বলেন,‘লেটার বক্স রয়েছে। সেটায় চিঠি আসে। তবে কমপ্লেইন সেভাবে আসে না। প্রয়োজনে অভিযোগ চিঠি আকারে লিখে অফিসে দিয়ে যায়। আর অনলাইনে অভিযোগ জানানোর সুবিধা তো রয়েছেই।

একটি সরকারি ব্যাংকের কোর্ট মোড় শাখার চিফ ম্যানেজার অভিরূপ পাল বলেন,‘হেল্পলাইন নম্বর রয়েছে। এছাড়াও অনলাইনে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি রয়েছে। তাই ব্যাংকে কমপ্লেইন বক্স থাকলেও তাতে কমপ্লেইন জমা পড়েনি বহুবছর হল। আগে ব্রাঞ্চে অভিযোগের পর অভিযোগ জমা পড়ে থাকত। কারণ সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে সমাধান করাটা চটজলদির কাজ ছিল না। অনলাইনে অভিযোগ জানানোর পর স্বচ্ছতাটাও এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘আগে হয়তো অনেক অভিযোগ ঠিক জায়গায় পৌঁছোতোই না। এখন অনলাইনে অভিযোগ জানালেই কেস আইডি পেয়ে যাবেন উপভোক্তারা। যতক্ষণ না তাঁরা সন্তুষ্ট হবেন ততক্ষণ কেস আইডি বন্ধ হবে  না।’

আরও পড়ুনঃ ‘রাজ’ সরে ভবনের আগে এল ‘লোক’! ‘রাজভবন’ হল ‘লোকভবন’

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে যেমন কিছু সুবিধে হয়েছে তেমন আবার একেবারেই অভ্যাসের বাইরে থাকায় মানুষ অভিযোগপত্র লেখার ধরনটাও ভুলেছে। রবীন্দ্রনগরের আশিস হালদার বলছিলেন,‘কত বছর হল অভিযোগপত্র লিখি না। চিঠির মতো এটা লেখাও শেষ হয়ে গেল। এখন লিখতে হলে ভুলেই যাব যে কোথায় কী লিখতে হবে।’

কলেজপাড়ার সায়ন চৌধুরী বলছিলেন, ‘এখন তো প্রয়োজনই পড়ে না। হাতের যন্ত্রটাতেই কাজ হয়ে যায়। একদিকে ভালোই হয়েছে। আবার  এর ফলে অনেক কিছুই ভুলে যাচ্ছি। অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে।’

মিলনপল্লির পঞ্চাষোর্ধ্ব সাধন সরকার বলছিলেন,‘এখন তো কমপ্লেইন বক্স থাকে না। তাই জমা দিতে পারি না। বহু বছর আগে আমাদের এলাকায় প্রায় প্রতিদিন দুপুরের পর কয়েক ঘণ্টা করে আলো চলে যাচ্ছিল। বিদ্যুতের অফিসে অভিযোগ জানিয়ে যে লাভ হয়নি সেটাই কমপ্লেইন বক্সে লিখে পাঠিয়েছিলাম। কোনওদিনও অফিস থেকে ফোন আসেনি। তবে কয়েকদিন পর সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।’

প্রযুক্তি যতই এগোক, একটা প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। দেশে সাক্ষরতার যে হার রয়েছে তাতে কি সবাই আদৌ অসুবিধায় পড়লে নিজেরাই অনলাইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন?

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন