কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
পর্যটকদের জন্য সুখবর ! এবার ষষ্ঠ বেঙ্গল হিমালয়ান কার্নিভালে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্ক ও জিটিএ । এবারের এই পর্যটন উৎসবে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সে এবং সিকিমের পর্যটনকে এক সুতোয় বাঁধার উদ্যোগ নিয়েছে HHTDN ৷
আরও পড়ুনঃ সিঙ্গুরে সভা শেষ করে দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল; আচমকাই দিল্লি চলো বাতিল মমতা-অভিষেকের
এবারে বেঙ্গল হিমালয়ান কার্নিভাল ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করল । আর এই কার্নিভালে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রুরাল ট্যুরিজম বিজনেস মিটের উপর । গোটা ভারত জুড়ে যারা পর্যটন শিল্প ও পরিচালন ব্যবাস্থা নিয়ে কাজ করে চলেছে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবারের এই কার্নিভালে ৷ এই উৎসবে অংশগ্রহণ করছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুর অপারেটরস অফ ইন্ডিয়া । পাশাপাশি গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পর্যটন বিভাগের পাশাপাশি থাকছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডও ।
আগামী ৩০শে জানুয়ারি থেকে ১লা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলায় আয়োজিত হবে এই কার্নিভাল । এখানে অংশ নিচ্ছে ইউনাইটেড সিটং হোমস্টে ওয়ালফেয়ার সোসাইটি, গরুমারা ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন-সহ একাধিক পর্যটন ও হোমস্টে সংস্থা । ৩০ জানুয়ারি চালসা থেকে এই অনুষ্ঠান শুরু হতে চলেছে ৷ ওই উপলক্ষে চালসার গোলাই থেকে মূর্তি পর্যন্ত একটি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা আয়োজিত হবে ৷ পাশাপাশি নানা ভাষা নানা জাতির সমন্বয় তুলে ধরা হবে ৷ চালসাকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র লাভা, ঋষভ, গরুবাথান নয়; তোদে, তাংটার মতো জায়গা রয়েছে ৷ সেগুলো যাতে পর্যটকদের কাছে পৌঁছে যায় সেটাই এবারের কার্নিভালের লক্ষ্য ।

পাশাপাশি ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে দার্জিলিংয়ের সিটং ও কালিম্পংয়ের কাফেরগাঁওতে । শুধুমাত্র কমলা নয়, সিটং খ্যাতি অর্জন করেছে চা শিল্পেও । পাশাপাশি সিঙ্কোনাও সিটংয়ের অন্যতম সম্পদ ৷ সেগুলো তুলে ধরা হবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিদের কাছে । অন্যদিকে কাফেরগাঁওতে নিজেদের পর্যটনকেও তুলে ধরা হবে । এই মুহূর্তে বহু মানুষ কাফেরগাঁওয়ের মতো জায়গায় হোমস্টে চালাচ্ছে ৷ যাতে তারা তাদের নিজেদের অর্থনীতির পাশাপাশি পর্যটকদের যাতে পাহাড়ের আসল স্বাদ দিতে পারে, সেই উদ্যোগও নেওয়া হবে এই উৎসবে ।
আরও পড়ুনঃ হায় রে, নেতাজীর জন্ম তারিখ বদলে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ অধিকারী! বেজায় চটে গেল ফরওয়ার্ড ব্লক
এবারের কার্নিভালে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুর অপারেটরস অফ ইন্ডিয়া-সহ নেপাল পর্যটন বোর্ডের কয়েক সদস্যের প্রতিনিধি দলও আসছে ৷ কোচি, দিল্লি, পটনা, কেরল থেকে ২৭ থেকে ৩০ জন ট্যুর অপারেটর আসবেন । ১০ জন বার্ডিং টিম থাকছে । বার্ডিং টিম একটি রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্যের পর্যটন দফতরের হাতে তুলে দেবে ৷ অন্যদিকে, হিমালয় মানেই যে উত্তরাখণ্ড বা সিকিম নয় , বাংলাতেও পাহাড় রয়েছে এবং তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে, তা তুলে ধরা হবে কার্নিভালে ।
হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট স্যানাল বলেন, “প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যটক পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে ৷ কিন্তু আমরা চাই ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও পর্যটকেরা আসুন । তাঁরা আমাদের এখানেও যে পাহাড় রয়েছে সেটা সম্বন্ধে জানুন । এখানেও অ্যাডভেঞ্চার হতে পারে, সেগুলো তুলে ধরতে চাইছি ৷ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটন নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁরা আসছেন কার্নিভালে ৷ তাঁরা দেখুন আমরা কীভাবে কাজ করি ৷ আমাদের এখানেও সুযোগ রয়েছে । বার্ডিং যাঁরা করেন তাঁদের একটি দল ডিটেইল রিপোর্ট তৈরি করে সরকারের হাতে তুলে দেবে ৷”
অন্যদিকে, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পর্যটন বিভগের মুখপাত্র দাওয়া শেরপা বলেন, “পাহাড়ের একাধিক জায়গায় বাইরের বহু লগ্নিকারীরা এসে হোমস্টেতে বিনিয়োগ করছে ৷ কিন্তু তাতে তারা আমাদের শিল্প সংস্কৃতির স্বাদ পাচ্ছে না ৷ সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় দেওয়া ৷ কিন্তু আমাদের স্থানীয় যুবরা ভিন রাজ্যে যাচ্ছে কাজের জন্য ৷ এই কার্নিভালের মাধ্যমে আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করব ৷ ছোট হোমস্টের জন্য জিটিএ কোনও কর নেয় না ৷ পর্যটকদের জানাব, শুধুমাত্র খাওয়াদাওয়া বা ঘুমানোর জন্য নয়, প্রকৃতিকে জানার জন্য, আসল মজা উপভোগ করার জন্য পাহাড়ে আসুন । এখানে রক ক্লাইম্বিং থেকে অ্যাডভেঞ্চারের একাধিক সুযোগ রয়েছে । সেগুলো ঘুরে দেখুন । সরকারি মান্যতা প্রাপ্ত গাইড রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরুন ।”





