Monday, 6 April, 2026
6 April
Homeদক্ষিণবঙ্গNandigram: “শুভেন্দুর পাশে যারা, তারা আদতে আমারই লোক”, হুঙ্কার তৃণমূল প্রার্থী পবিত্রর

Nandigram: “শুভেন্দুর পাশে যারা, তারা আদতে আমারই লোক”, হুঙ্কার তৃণমূল প্রার্থী পবিত্রর

২০২৬-র নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম যে বঙ্গ রাজনীতির এপিসেন্টার হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

নন্দীগ্রামে মানেই হাইভোল্টেজ লড়াই! ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিপক্ষে ঘাসফুল শিবিরের বাজি তাঁরই একসময়ের ‘বন্ধু’ তথা ভূমিপুত্র পবিত্র কর। আর লড়াই শুরুর আগেই তাঁর ‘কৌশলে’ অস্বস্তি বাড়ছে গেরুয়া শিবিরে।

আরও পড়ুনঃ মমতার কপ্টারের সামনে ড্রোন উড়িয়ে গ্রেফতার নূর

তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সাম্প্রতিক এক দাবি ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি দাবি করেছেন, “এখন ওঁর (শুভেন্দু) ডানদিক, বাঁদিক, সামনে, পিছনে যাঁরা আছেন, তাঁরা আদতে আমারই লোক। ভোটের দিন তাঁরা আমার হয়েই কাজ করবেন, মিলিয়ে নেবেন।” শুধু তাই নয়, নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী পবিত্রর দাবি, এবার তিনি ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন। নিজেকে ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের ভোট ময়দানে শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান হাতিয়ার ‘হিন্দুত্ব’। জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট মেরুকরণের বার্তা দিয়ে বলছেন, “সব হিন্দু ঘরে ঘরে গেরুয়া ধ্বজ উঠবে। মৌলবাদী-জেহাদিদের সঙ্গে হিন্দুরা থাকবে না।” তবে স্থানীয়দের মতে, পবিত্র করও হিন্দুত্বের উদযাপনে শুভেন্দুর থেকে পিছিয়ে নেই। ফলে হিন্দু ভোট কোন দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। এছাড়া এলাকার উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সুফল এখানে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও প্রার্থী হয়েছেন। ফলে ভবানীপুরে বেশি সময় দিতে গিয়ে নন্দীগ্রামের সংগঠনের রাশ আলগা হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও শুভেন্দু আত্মবিশ্বাসী গলায় বলছেন, “আগের বার প্রতীক দেখে ভোট হয়েছিল, এবার মানুষ প্রার্থী দেখে ভোট দেবেন।”

তৃণমূল ও বিজেপির এই দ্বৈরথের মাঝে নিজেদের মাটি শক্ত করতে মরিয়া বাম ও আইএসএফ। সিপিআই-এর ভূমিপুত্র প্রার্থী শান্তি গিরি ধর্মীয় মেরুকরণ ও দলবদলের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, আইএসএফ প্রার্থী মহঃ সবেমিরাজ আলি খান তৃণমূল ও বিজেপি উভয়কেই ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা দিয়ে ১০০ শতাংশ জয়ের আশা প্রকাশ করছেন।

আরও পড়ুনঃ যুদ্ধের আঁচে বন্ধ হতে পারে ইন্টারনেট, মোবাইল হয়ে যাবে অকেজ যন্ত্র! বিপদে রক্ষা করবে এই তিনটি অ্যাপ

নন্দীগ্রামের এই বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৮ হাজারের কিছু বেশি। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তৃণমূল ও আইএসএফ-র প্রভাব থাকলেও, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মেরুকরণের লড়াই তীব্র। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের মানুষ ‘ভূমিপুত্র’ পবিত্রকে বেছে নেবেন, নাকি ‘হেভিওয়েট’ শুভেন্দুতেই আস্থা রাখবেন, তা সময় বলবে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-র নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম যে বঙ্গ রাজনীতির এপিসেন্টার হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দিন যত এগোচ্ছে, ততই চড়ছে উত্তেজনার পারদ।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন