spot_img
Friday, 20 March, 2026
20 March
HomeকলকাতাKolkata: ঐতিহ্যে উজ্জ্বল টিপু সুলতান মসজিদ, রমজানের এক আকর্ষণ

Kolkata: ঐতিহ্যে উজ্জ্বল টিপু সুলতান মসজিদ, রমজানের এক আকর্ষণ

এই মসজিদের দরজা খোলা সকলের জন্য—ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

রমজান এলেই কলকাতার নামের সঙ্গে জুড়ে যায় জাকারিয়া স্ট্রিট, ভিড় জমে নাখোদা মসজিদ চত্বরে । তবে শহরের রমজানের রঙ সেখানেই শেষ নয় । ধর্মতলার ব্যস্ত মোড়ে, ইতিহাসের ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা টিপু সুলতান মসজিদও এই সময়ে হয়ে ওঠে সম্প্রীতি, ঐতিহ্য আর মানবিকতার এক অনন্য মিলনক্ষেত্র ।

আরও পড়ুনঃ আগামীকাল শনিবার ইদ; ঘোষণা করল নাখোদা মসজিদ

কলকাতা এমন এক শহর, যেখানে একসঙ্গে সহাবস্থান করে নানা ধর্ম, সংস্কৃতি ও স্মৃতি । হলুদ ট্যাক্সি, ট্রাম, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা হাওড়া ব্রিজ—এই শহরের পরিচিতির তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর । সেই তালিকায় সমান গুরুত্ব নিয়ে জায়গা করে নিয়েছে এই ঐতিহাসিক মসজিদও ।

১৮৩২ সালে, মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের কনিষ্ঠ পুত্র প্রিন্স গোলাম মুহাম্মদ ধর্মতলার এসপ্ল্যানেড অঞ্চলে এই মসজিদ নির্মাণ করেন । প্রায় দুই শতকের ইতিহাস বহন করা এই স্থাপত্য শুধু ধর্মীয় উপাসনার কেন্দ্র নয়, বরং শহরের বহুসাংস্কৃতিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বিতর্কও ঘিরেছে এই মসজিদকে। কয়েক বছর আগে তৎকালীন ইমামকে কেন্দ্র করে বিতর্কে সরগরম হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি ৷ তবে সেই অধ্যায় পেরিয়ে এখন টিপু সুলতান মসজিদ নতুনভাবে পরিচিত—তার উদারতা, অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক উদ্যোগের জন্য ৷

রমজান মাসে সেই ছবি আরও স্পষ্ট হয় । প্রতিদিন ইফতারের সময় মসজিদের প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে নানা ধর্মের মানুষের ভিড়ে শুধু নামাজ পড়তে আসা মুসলিম সম্প্রদায়ই নন, পথচলতি মানুষ, কেনাকাটা করতে আসা পরিবার—সকলের জন্যই এখানে থাকে ইফতারের ব্যবস্থা ৷ শহরের ব্যস্ততার মাঝে এই উদ্যোগ যেন এক টুকরো আশ্রয় !

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ করা হয় ২০১৮ সালে । মসজিদের প্রায় ১৮০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার মহিলাদের জন্য আলাদা ইফতারের ব্যবস্থা করা হয় ৷ শামিয়ানা টাঙিয়ে তৈরি হয় পৃথক বসার জায়গা ৷ প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন মহিলা সেখানে ইফতার করেন ৷ অনেকেই, যারা আগে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রোজা ভাঙতে বাধ্য হতেন, তাঁদের জন্য এই উদ্যোগ হয়ে ওঠে স্বস্তির জায়গা ।

টিপু সুলতান মসজিদ কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা শামীম মুবারকি বলেন, “ইফতার শুধু খাওয়া নয়, এটি একসঙ্গে থাকার, ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্ত ।” সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ । আজও তা সমানভাবে চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ ।

আরও পড়ুনঃ নগদ লেনদেন বন্ধ; ১ লা এপ্রিল থেকেই বন্ধ বাস? 

শুধু ইফতার নয়, মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ঘরও তৈরি করা হয়েছে । রমজানের দিনগুলিতে মসজিদের চত্বর ভরে ওঠে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়ে । কেউ বিশ্রাম নিতে আসেন, কেউ প্রার্থনায় অংশ নেন, আবার কেউ শুধু এই পরিবেশটুকু অনুভব করতে ।

সবচেয়ে বড় কথা, এই মসজিদের দরজা খোলা সকলের জন্য—ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে । সেই উন্মুক্ততাই যেন কলকাতার প্রকৃত চেহারা তুলে ধরে । রমজানের আলোয় তাই টিপু সুলতান মসজিদ শুধুই এক ঐতিহাসিক স্থাপত্য নয়—এটি এক জীবন্ত প্রতীক, যেখানে ঐতিহ্য মিশে যায় মানবিকতায়, আর ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে তৈরি হয় সম্প্রীতির এক বড় ছবি !

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন